Monday, 3 January 2022

নিরাপদ বিশ্বাসের দুটি কবিতা--

নিরাপদ বিশ্বাসের দুটি কবিতা--

"তোমার জন্মদিনে"
-------------------------
আজ তোমার জন্মদিন,
তোমায় নিয়ে ভেবেছি সারাটা দিন!
তোমাকে পেয়েছি অস্পৃশ্য আর
অবহেলিতের মাঝে;
তোমাকে পেয়েছি ধুঁকে যাওয়া জীবনের জীবনীয় কাজে--
নিরন্ন পথ পেয়েছে তোমার ইশারায়
আর্ত পেয়েছে ঠিকানা;

তোমাকে যে কি দিয়েছি জানিনা
কিন্তু পেয়েছি তো অনেক;
হাজার প্রশ্ন বন্ত মন'-দগ্ধ করেছে প্রশ্নবানে!
তোমার পথে হাঁটতে শিখিয়েছিলে
যে কঠোর দুর্গম পথ হেঁটে-
হাঁটতে পেরেছি কি আমরা এতদিনে-----?

তোমার গৈরিক ভারত বর্ষ
গৌরবে করেছিলে মুখর
স্থানু হয়েছিল'-
যে সভা স্থল----
মুগ্ধ অভিভাষণে,
তা আজও জাজ্জ্বল্য'--অমলিন।

তোমাকে জেনেই তো জেনেছি
তুমিই মূর্তিমান ভারত বর্ষ'
তোমাকে জেনেই জেনেছি
ভারত বর্ষের রূপ'
সা মাং প্রধা;
আমার খান্ডব প্রস্থ জীবন রেখা থেকে
বানপ্রস্থ, সন্ন্যাস!
সবই অনাবোরিত তোমার ঊর্জ্জি - আহবানে ;
তোমারি জন্ম দিনে তাই বলি,
--হে বিবেক,-হে বাণী'
তুমি বারবার এস নামি
এ কুহেলিকাময় আবরণ হ'তে
তোমার ভারতেরে
পুনঃ
মুক্তি দাও আনি--।"


অরণ্য কুমারী
__________________
বড্ড দুরন্ত অরণ্য কুমারী
নাম তার রিমি।
মুক্ত আকাশ মুক্ত অঙ্গন!
সে চঞ্চল হরিণী
টানা টানা চোখ
ফুলের বাহারে ভরা বিনুনি
কোমল -অমল লহিনী
লাজবন্তী, দৃষ্টি হরনি!
সুঢল ঢল ঢল পল্লবিনী।
হেঁটে চলে বন হতে বনান্ত,
পায়ে পায়ে চঞ্চল অফুরন্ত;
কখনো একাকিনী
কখনো বা লয়ে সঙ্গিনী
বিলাস বিহঙ্গিনী!

ধিঙড়ি নাচে সে অনন্যা
গানের আসরে সে বন্যা।
নির্জন বনপথে বহুবার
তার গানে মুগ্ধ হয়েছি, মুখর চরাচর;
সে গান, আজো কানে বাজে বারবার!

চলতে চলতে হঠাৎ থমকে যাওয়া,
সময়ের বিলম্বিত লয়,
এভাবে অবরোধ আনবে'--
শ্রাবণ সন্ধ্যা থেকে পাবন ফাগুনে অরণ্য কুমারীর,
এভাবে কখনো ভাবিনি!!


নদী, পূরনো পাড় ভেঙে ভেঙে'---
ছলাৎ ছলাৎ তৈরী করে নূতন পাড়।
জীবনের রোজনামচা বলিহয়'---বদলের ধারাপাতে।
ভাঙা মেঘের ফাঁক থেকে'
উঁকি দেয় অস্তগামী রবি,
কুয়াশার জাল বুনে নেমে আসে
হেমন্তের সন্ধ্যা;
দুর্লভ অনুভূতিতে রাত নামে
নদীর পাড়ে তমাল বনে!
একাকিনী অরণ্য কুমারী
ঝাঁট দেয় একফালি নিকানো উঠান!
মহুয়া তেলে টক পাতার সম্বরার গন্ধে'-
বাতাস ভুরু ভুরু;
এক কোনে চুপ হয়ে আছ'-ক্লান্ত কেরোসিনের লন্ঠন!
সে আড়ি পাতে বনপথে
এল কি সেই চির অতিথি?
যে আসবে বলে ছিল একদিন;
ডুমুরের ডালে ঝাঁকি দেয় তখনই
বাদুড়ের দল!
আবারও নিষ্ফল!
সে থমকে দাঁড়ায়!
তবুও অপেক্ষায়
নতুন আশায়।

বাঁশ বনের চুচোড় পেরিয়ে
সকালের রোদ্দুর খেলে
কাটা ধানের স্তূপে,
পাতার ঠোঙায়,
তাড়ির বসে,
থীর থীর ঝর্নার জলে!
চাটাই পেতে শুয়ে আছে মা';
সে পথের দিকে তাকায়,
যদি আজ বুধুন আসে।'
আছে তো তারই অপেক্ষায়!!
হঠাৎ ওপার থেকে হাঁক দিয়ে ওঠে
ইট ভাটার সর্দার'-রামাইয়া
প্রতাপী, নারী লোভী ঠকবাজ মাফিয়া।
সময় থমকে দাঁড়ায়
বুক কাপে তার
সারা শরীর কাঁটা দেয়!!
মনে ভয়, কি হয়!কি হয়!
ঢেউ ওঠে জলে
মাটি কাঁপে!
পাড় ধসে পড়ে!
পাহাড় ধসে পড়ে!!!!!


কলমে,
নিরাপদ বিশ্বাস
বিবেকানন্দের জন্মদিন উপলক্ষে


"তোমার জন্মদিনে"
-------------------------

আজ তোমার জন্মদিন,
তোমায় নিয়ে ভেবেছি সারাটা দিন!
তোমাকে পেয়েছি অস্পৃশ্য আর
অবহেলিতের মাঝে;
তোমাকে পেয়েছি ধুঁকে যাওয়া জীবনের জীবনীয় কাজে--
নিরন্ন পথ পেয়েছে তোমার ইশারায়
আর্ত পেয়েছে ঠিকানা;

তোমাকে যে কি দিয়েছি জানিনা
কিন্তু পেয়েছি তো অনেক;
হাজার প্রশ্ন বন্ত মন'-দগ্ধ করেছে প্রশ্নবানে!
তোমার পথে হাঁটতে শিখিয়েছিলে
যে কঠোর দুর্গম পথ হেঁটে-
হাঁটতে পেরেছি কি আমরা এতদিনে-----?

তোমার গৈরিক ভারত বর্ষ
গৌরবে করেছিলে মুখর
স্থানু হয়েছিল'-
যে সভা স্থল----
মুগ্ধ অভিভাষণে,
তা আজও জাজ্জ্বল্য'--অমলিন।

তোমাকে জেনেই তো জেনেছি
তুমিই মূর্তিমান ভারত বর্ষ'
তোমাকে জেনেই জেনেছি
ভারত বর্ষের রূপ'
সা মাং প্রধা;
আমার খান্ডব প্রস্থ জীবন রেখা থেকে
বানপ্রস্থ, সন্ন্যাস!
সবই অনাবোরিত তোমার ঊর্জ্জি - আহবানে ;
তোমারি জন্ম দিনে তাই বলি,
--হে বিবেক,-হে বাণী'
তুমি বারবার এস নামি
এ কুহেলিকাময় আবরণ হ'তে
তোমার ভারতেরে
পুনঃ
মুক্তি দাও আনি--।"

------------------------------নিরাপদ

No comments:

Post a Comment

শম্পা বণিকের তিনটি কবিতা --

শম্পা বণিকের তিনটি কবিতা --  রোড শো ২০২১  ------------------------ আলাদিনের চিরাগ হাতে ওই আসে গণতন্ত্র রামধনু পায়রা উড়িয়ে.......