সান্ত্বনা চ্যাটার্জির গুচ্ছ কবিতা--
ভালোবাসার সাতকাহন
ভালোবাসি
মনে হয়েছিল ভুল পথে চলেছি
যেন কোনো স্বপ্নাবিষ্ট, মোহোগ্রস্ত,
নেশাতুরের মতন
পতনের দিকে।
সুন্দরকে মনে হয়েছিল-অসুন্দর।
কুয়াশা যেমন
গতি রোধ করে- আবছা করে
দৃষ্টিকে। একটু খানি পাপ বোধ
গ্রাস করে সত্যকে,
মিথ্যা নয় ভালবাসি ওকে ।
---------------------------------------
তোমার কাছে যেতে চাই
আমি তোমার কাছে যেতে চাই
কোথায় আছ তুমি
আকাশে, বাতাসে, নদীতে, সাগরে !
নাকি আগুনে পুড়ে হয়েছ ছাই ।
আমি তোমার কাছে যেতে চাই-
আর্তনাদের মত শুনি
প্রতিধ্বনি ফিরে ফিরে আসে
ধাক্কা খেয়ে পাহাড়ে পাহাড়ে,
যে কথা আমি শুণ্যে ওড়াতে চাই ।
আমি তোমার কাছে যেতে চাই-
যে প্রেম দেয়নি ধরা,
রয়েছে গোপন
আমার অন্তরে, তোমার দেহঘরে,
আমি তাকে কাছে পেতে চাই,
আমি তোমার কাছে যেতে চাই ।
*************************
কৌতুক
সে কৌতুক করেছিল,
আমি তখন ঠিক বুঝিনি,
তবু ভাল লেগেছিল।
কৌতুক তার নেশা,
নদীতে ফেলেছিল ছিপ,
আর জাল ছড়িয়েছিল সরোবরে,
অমি খুব ভোরে উঠে
মাছ হয়ে ছিপটাকে নিয়েছিলাম গলায়,
আর বোয়ালমাছের মতন জাল
জড়িয়ে নিয়েছিলাম
সারা গায় সেদিন সন্ধায় ।
সে কৌতুক করেছিল।
কৌতুক তার পেশা,
ছিপ রেখে, জাল ছেড়ে
সে যখন ফিরে গেল তার ঘরে
তখন গভীর রাত।
আমার মনে তখন মুক্তির আশা ।
কিন্তু আমি অনেক খুঁজেও পাইনি আমার হাত ।
……….
পরস্ত্রী
কপালে ও কিসের দাগ তোমার
একি আমার চোখের ভুল!
মদন-ভষ্ম লাগল যখন চোখে আমার
সামনে কেন এলে তুমি , হায় একি ভুল !
কালো চোখের তারায় তোমার রাতের স্বপ্ন কার তরে ?
হায় রে ও রূপ দেখাল কে হৃদয় কেন দিলাম তোমায় ভুল করে ।
ভুল করে কি দেখেছিলাম
ভালবাসার ছায়ায় ঘণ তৃষার আগুন ঐ চোখে?
ভুল করে কি ছড়িয়ে ছিলে
পলাশ রাঙা মনের ফাগুন এই বুকে?
রক্তে নেশা মাতাল হাওয়া দেয় দোলা,
কেমন করে যায় ভোলা সেই পরস্ত্রীকে
হায় একি ভুল !
********
ভালোবাসা
শিশু সরল পশু পাখি
পদ্মপাতা মন,
সেই সরলে গরল কেন ঢালিস!
কিসের প্রয়োজন ?
পশু হৃদয় চোখেই রাখে
যে বোঝে সেই বোঝে,
শাষণ ভয়ে পা চলেনা
মন তরঙ্গ খোঁজে।
কোন প্রাণে কেউ শিকলে বাঁধে
এমন নরম মন,
দূরেই থাকুক তোমার পোষ্য
সে সুখে কাটাক জীবন।
আমি ভুলেই যাব তাকে,
তার স্মৃতি ও রাখবনা।
মনের গোপন কোনায়,
আর তাকে ডাকবনা।
মানুষ বডই হৃদয়হীন
পোষ্য যে তার কেনা!
মালিক ছাডা তার জীবনে
আর কেউ থাকবেনা ।
ভলোবাসা কি সত্যি কেনা যায়!
—————
জাগিয়ে দিলে
আজ শীতের শেষে ফাগুন মাসে ,
নেশার মতন হওযায় ভাসে,
কার বারতা - কাব্য কথা ।
আমার জীবন মরণ সকল জুড়ে
যে থাকে আজ সে এসেছে ,
আয় রে তোরা কে যাবি আয় ,
আমার সাথে কদম তলায় ।
ঝুমকো লতা দুলিয়ে গলায় ,
আমায় কে ডেকেছে
মধুর স্বরে।
তার বলিষ্ঠ হাত জড়িয়ে ধরে ,
আলিঙ্গনে শরীর জুড়ে ফুল ফুটেছে,
সেই যে তুমি লুকিয়েছিলে
আমার মনের মনিকোঠায়
আজ দখিন হওয়ার দোলায় যেন
বাহির হলে -
আজ তোমার রঙে রাঙিয়ে
এ মন জাগিয়ে দিলে ।।
———
প্রাণের টানে
দূরের মানুষ দূরেই থাকে যদি না ডাকো কাছে ,
যেমন দূরে আছে তোমার সুর্য তারা চাঁদ ;
যেদিন বোঝো কে পেতেছে জীবন-জোড়া ফাঁদ ,
বুঝবে বন্ধু তারা তোমার জীবন জুড়ে আছে ।
আমি তোমায় ডেকে ডেকে সারা হলাম তবু,
কে যে তুমি তাই বুঝিনি মিথ্যা ডাকা ডাকি ,
এমনি ভাবে নিজের মন নিজেকে দিয়ে ফাঁকি ;
বায়না ধরে আমায় তুলে ধরতে হবে প্রভু ।
প্রভু-ভৃত্য, বন্ধু-মিতা কোন পথটা সোজা ;
কোন পথটা চলতে গেলে কাঁটার ভাগ কম ,
কোন পথটা ফুরিয়ে গেলেও ফুরাবেনা দম ।

No comments:
Post a Comment