Monday, 3 January 2022

জেবুননেসা হেলেনের দুটি কবিতা--


জেবুননেসা হেলেনের গুচ্ছ কবিতা--

। সিন্ধু শিৎকার

মোহনার মোহন বাঁশি 
আশি আশি সূতোর আশিক,
পৃষ্ঠপোষক শহরে অভিনব
জীবন কী বোঝে?

মোহনার নোনামিঠাজলের
নৈসর্গিক প্রেম বোঝে 
জলজ কোলাহলে 
জলজ জীব সহাবস্থান কালে।

প্রেম ভিখারী,
রূপের নয় জহুরি। 

২। ঋতুমতী প্রেম

খনিজ থেকে একটুকরো 
সিলিকন কণা নিয়েছিলাম।
দিয়েছিলাম ইউরোনিয়াম।

এতো দামী মৌলের কাজ
তখনও জানি নি।

বিক্রিয়ায় পরমাণু 
ভেঙে- ইলেকট্রন, প্রোটন, 
নিউট্রন  কেঁদেছে। 

ফাঁদপাতা বোমায়
হৃদয় ভেঙেছে।

তবু ভালোবাসা অন্ধের মতো
বোমারু সন্ত্রাসে ধায়।

আমি নেয়ে উঠি অমৃত সুধায়
--- আয়! আয়! আয়!

এঁটো অন্নে স্বাদকোরকের
পাঁচ গ্রন্থির লালারসে 
পরিপাক সময়...

৩। আর্তি

তোমার আমার আয়নায় দেখা।

বললে, এসো জড়িয়ে ধরি
দু'জন দুজনকে।

জড়িয়ে ধরলাম।

দেখি,
হয়ে গেলো কলম আর খাতা।

ঝলমল করে উঠলো বর্ণাক্ষর।

প্রতিবিম্বে স্বাক্ষর কি আপন?

৪। তরী- ঘড়ি

শবযাত্রায় শামিল হতে পারি নি,
তাই শবাসনে বসে
যাত্রাগুলো স্মরণ করি।

মায়ের বয়স কত তখন!
ত্রিশের কোঠা হয় নি পার।

দাদী গেলেন ও পাড়ায়,
নানা গেলেন
গেলেন দাদা
গেলেন নানীও।
বাবা,চাচারাও খরচের খাতায়।

আমরা যারা খসড়া খেরোখাতায়,
সবাই যাত্রা লাইনের কিনারায়।

এই তো জীবন
ডাকছে মরণ। 

অতীত ঘিরে বর্তমানের
ঘোর বেঘোর ঘর গৃহস্থালি।

। ১৭২ বছর অতিক্রান্তিতে

বসুন্ধরার দিকে
চেয়েছিলো
কুয়াশাভেদ করা সূর্যটা
কিন্তু চাঁদ
এসে ঢেকে দিলো
তার রাঙা শরীর।

পৃথিবী তখন মন খারাপ ভাব
বুকে ফিরে গেলো
পুরাতন গোয়ালে।

ছাওয়াল পাওয়াল রোদচশমায়
তাপ খুঁজে,
কেউ পেলো আনন্দঘন মন,
কেউ কুয়াশায় মুড়ি দিয়ে
ডুব দিলো খাদ্যাভ্যাসে।

তুমি সেই তিন ঘণ্টা পাঁচ মিনিট
কি করছিলে?

চলো,
১৭২ বছর পেরিয়ে
এমন সৌরদিনে দেখা করি
দু' জনে...

No comments:

Post a Comment

শম্পা বণিকের তিনটি কবিতা --

শম্পা বণিকের তিনটি কবিতা --  রোড শো ২০২১  ------------------------ আলাদিনের চিরাগ হাতে ওই আসে গণতন্ত্র রামধনু পায়রা উড়িয়ে.......