অবশ
অঞ্জলি দে নন্দী, মম
প্রচন্ড শীত।
ডান হাত অবশ, বয়স - আশি।
বিধবা মা আর ছেলে, বাস ওদের কাশী।
আগের বছর ছেলে পেয়েছে উপবীত।
মন্দিরে পূজো করে, সংসার চলে।
বাঁ হাতে রেঁধে খাওয়ায় ও খায়।
মায়ের কাজ কি আর বন্ধ হয়?
ছেলের খাবার বানানো যে সুখ দেয় মাকে।
বহু চিকিৎসক দেখিয়েছে ছেলে তাকে।
কিছুতেই আর কিছু না হয়।
অসুখের কাছে জীবন যে নিরুপায়।
বাবা বিশ্বনাথের দয়ায় একদিন
হল ছেলের শুভ পরিণয়।
পুত্রবধূ এলো পুরোনো ঘরে।
শিব রাত্রী, বড় পুণ্যের দিন সেদিন।
ছেলে, বৌ ও মা ব্রত করে।
হঠাৎ মাঝ রাতে
মায়ের ডান হাতে
খুব যন্ত্রণা উঠল।
ছেলে চিকিৎসক আনতে ছুটল।
ব্যাস, একটু পরে সব শেষ।
ছেলে আর চিকিৎসক এলো।
মা ততক্ষণে ছেড়ে দিয়েছে শেষ নিঃশ্বেস।
ছেলে বড় কষ্ট পেলো।
পরের বছর ছেলে ও বৌয়ের হল যমজ ছেলে।
খুব আনন্দ পায় সে পূজারী ছেলে।
দুছেলেকে কোলে নিয়ে ভাবে সে,
গভীর সাংসারিক-আবেশে,
"মা আমার অবশ হাতে
আমাকে আদরে লেলেপেলে
তৃপ্তি পেতো কত।
আহা এখন যদি মা থাকত সাথে,
খুশি হত কত!"
No comments:
Post a Comment