আমার ভেজা পা-পাতা
তাপসকিরণ রায়
আমি দুর্দান্ত কিছু করতে গিয়ে
যে দিন অনন্ত আকাশে ঢিল ছুঁড়লাম
সে ঢিল আর বুঝি ফিরে আসেনি...
চমৎকারী কথার ফাঁদে আমরা মজে যাই অনায়াসে--
ভূস্খলন চিড়ে আটকে ছিল যে শিশুটি,
আমি তাকে জ্যান্ত তুলে আনার অদম্য ইচ্ছেতে...
আশ্চর্য মাদুলি থেকে সিদ্ধাই কিছু তুর্যালোক তোমার আমার মুখ আলোকিত করতে পারে।
দেব আভায় তুমি মন্দিরের স্থির স্ট্যাচু হয়ে গেলে,
সাপের বিষ দাঁত খুলে কিছু বিষৌষধী
তোমার গালে ঢেলে দিলাম--
আর মন্দির বিগ্রহ ভেঙে উঠে এল আমার সহস্র দেবীরা।
কুকুরের ভালোবাসা একদিন জংলী মানুষের মনের ভিত নাড়িয়ে, মৃত্যু ঝাঁপ দিয়েছিল।
চাঁদের স্পর্শে তোমার ভালোবাসাটুকু ছিল,
তাই বুঝি আজকের সভ্যতা এবং স্থায়িত্ব।
কিন্তু আমি অবিনশ্বর থেকে গেলাম--
আমি চূর্ণালোক হয়ে তোমাদের দৃশ্যতয়া, টুকরো টুকরো জুড়ে গিয়ে
নবজন্ম নিতে চাই।
এক ডাকে জ্বলে উঠুক আমার খাপ খোলা তরবারি--
প্রতীক চিহ্ন থেকে আমার শীর্ষ এবং
অর্ধ অবয়ব খুলে যেতে যেতে
তোমরা চিৎকার করে উঠবে, ম্যাজিক--
দাহ নেই, অন্তর্দাহ নেই, আগুন নেই, স্ফূলিঙ্গ নেই, আমার কাছে আমি নেই, তোমাদের কাছে তোমরা নেই,
হঠাৎ ভ্যানিশ, অনন্ত থেকে আমায় দেখিয়ে তোমরা বললে,
ওই সেই চমৎকারী ম্যাজিশিয়ান !
এক ন্যাতানো সরীসৃপের মত
কুণ্ডলী ভেঙে হঠাৎ যদি শক্তিময় বীর্যশালী কোন চমৎকারী শূন্যতা ছুঁয়ে দিতে পারি--
তোমরা সে জমায়েতের দর্শকের মধ্যে থেকে
সিনেদৃশ্যের মত আমার উল্লম্ফন ও অপরাজেয় শেষ নায়ক দেখো,
অনন্তনাগ শীর্ষে আমি বসে আছি দেখো!
দুর্দান্ত কিছু একটা করে নিতে
আমার সেই শূন্যতায় ছুড়ে দেওয়া অদৃশ্য ঢিল আর কোন দিন যদি ফিরে না আসে!
যদি বাস্তবকে ভেঙেচূরে জমা পড়ে
বিজ্ঞানের ব্যর্থতা,
তখন আমার আর্তনাদ উঠে আসুক,
তোমরা চমকিত আমার লালাভ মুখ, উজ্জ্বল মুখ, মহামান্য অন্তর্ধান ছবিতে তখন আর আমি নেই--
তাতে ক্ষতি কিছুই নেই,
আমার ছবি দেওয়ালে দেওয়ালে টাঙিয়ে রেখো, অনন্তরেখা পার করে গেছি তখন আমি,
মাটিগর্ভে, ধীরে, অতি ধীরে
তৈরী হোক আমার শিলালেখ।
অমৃতবাণীর মন্ত্রপূত ভূর্জপত্র রাখা থাক, আর আমার ভেজা পা-পাতা থেকে উঠে আসুক
গঙ্গা-যমুনা-নর্মদা...
No comments:
Post a Comment