Wednesday, 5 January 2022

সম্পাদকীয়---

সম্পাদকীয়---

আসলে আমাদের মধ্যে কিছু কিছু অভ্যাস বা নেশা বাসা বেঁধে থাকে--তা না মদ, না জুয়া না অন্যকিছুর। তবু আমরা নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ি কিসের আতুর আবাহনে ? হ্যাঁ, লেখালেখি ব্যাপারটা  আমাদের, বিশেষ করে বাঙালিদের মধ্যে একটা বড়ো নেশা।

কখনও এমনি হয়, সময় আর যেন কাটতেই চায় না। আবার অনেকটা সময় আমরা নিজের আজানতেই কাটিয়ে দিই। আনমনা প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে থেকে ভাব-বিহ্বল হয়ে পাড়ি। একটা মুহূর্ত আসে যখন এই সব ভাব ভাবনা আমরা অন্যের মধ্যেও প্রতিফলিত হতে দেখতে চাই। নিজের ভাবভাবনাভাষা সবার সামনে মেলে ধরতে চাই। নিজের একাকিত্ব ভুলতে তোমাদেরও টেনে আনতে চাই সেই ভাবনার নেশাগ্রস্ত বাসরে। 

অনেক সময় ভালোবাসা, কবিতার ভালবাসায় ডুবে যায়। আমরা বড় লালায়িত থাকি, মন কেড়ে নিতে অনাথ প্রেমিক চেয়ে থাকে প্রকৃতির সাজানো আঙিনায় ও অবশেষে সে খুঁজে ফেরে "তারে"। কারে খুঁজে ফেরে ? কে সে ?

আসলে আমারা জীবনভর আমাদের প্রেমিক প্রেমিকাকে খুঁজে ফিরি--খুঁজে ফেরা মনবাসনা বয়সের তারতম্যে ভিন্ন ভিন্ন রূপ নিয়ে ধরা পড়ে। বালক, কিশোর, যৌবনের ভালোবাসা, চাওয়া-পাওয়ার বদল হয়। আবার বার্ধক্যের চাওয়া-পাওয়া হয় সম্পূর্ণ অন্যরকম। তখন 'তারে' খুঁজে ফেরার অর্থ হয় অন্য রকম, সে সব আধ্যাত্মিক জীবনে শান্তি খুঁজে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে আরাধ্য দেবতাকেও বুঝি আমরা খুঁজে ফিরি।

লেখালেখির কিন্তু কোন বয়েস নেই, বিষয়ের তারতম্য থাকতেই পারে। অবসর বিনোদন আমাদের কবিতা গল্প বা লেখালেখিতে ব্যতীত হবে এটাও স্বাভাবিক। এই লেখালেখি একটা সময় অভ্যাসে পরিণত হয়ে ওঠে। আর একটা সময় তা নেশায় পরিবর্তিত হয়ে যায়। তখন প্রতিদিন আমাদের লিখে যেতে ইচ্ছে করে, আমরা মনের ভাবনাগুলি ধরে রাখতে চাই আঁচড় লিপিতে। আমাদের মনে আশা জাগে, আমার নোভাবনাগুলি অন্যে জানুক, আমার মনের সৃজিত ভাব ভাবনাগুলির সঙ্গে সবাই পরিচিত হোক। আমার  উদার মনের কথা, আমার লেখার চাতুর্যতার কথা, আমার অবলীলাক্রম কবি আবেগের কথা যে খাতার পাতায ভরিয়ে রেখেছি সেখানে পাঠক-পাঠিকাদের যে বড় প্রয়োজন।

আমরা কম-বেশি যা লেখালেখি করি তা তে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি। লেখার একটা তাগিদ আমাদের মনের ভেতর থেকে উঠে আসে। আমরা লেখার মধ্যে বুঁদ হয়ে যেতে চাই, মনের মাঝে এক ধরনের নেশা কাজ করে চলে, আমরা মনের উদ্বেলিত ভাবাবেগ বাইরে উগলে দিতে চাই।

কবিতা পেশা হয় ক'জনের ? কবিতা নেশা হয় অনেকের। এ নেশা স্বার্থের কথা বোঝে না, এ নেশা শুধু মনের খোরাক। তাই বুঝি আমরা শোকে দুঃখে বিরহ বেদনায় কবিতা লিখে যাই।

মূল্যহীন, অথচ মনের দিক থেকে মহামূল্যবান, আমাদের এ নেশার বস্তুটি। আমাদের শরীর লালন-পালন সীমিত দায়গ্রস্ততা। শরীর থেকে মনের খাদ্যখুরাক আরও বেশী গুরুত্বপূর্ণ। শরীর লালনের সঙ্গে সঙ্গে আসুন আমরা লিখি- পাড়ি, মন সৃজন করি, অশান্ত মনকে শান্ত করি, কষ্ট দুঃখকে নিমজ্জিত কলমে ও ঠোঁটে প্রাত্যহিক দিন গুজার করি। কিছু লিখিপড়ি, এই অভ্যাস আমাদের ধ্যান-ধারণার মত মনকেও  সমৃদ্ধ করবে।

আমাদের এবারের স্বরধ্বনি ব্লগ পত্রিকা নভেম্বর-ডিসেম্বর, ২০২১ সবাইকে পড়ে দেখতে অনুরোধ জানাই। ভুলত্রুটি পরীক্ষানিরীক্ষার মধ্যে দিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি। আমাদের পথযাত্রাকে আরও প্রশস্থ করতে আমরা চাচ্ছি আগামী বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে প্রকাশ করব আমাদের বার্ষিকী ছাপা সংখ্যা। এ ব্যাপারে আপনাদের সক্রিয় সহায়তার অপেক্ষায় থাকছি। প্রথম ছাপা সংখ্যাটি আমরা যৎসামান্য মূল্যে রাখতে চাচ্ছি। এ সম্বন্ধে আপনাদের, লেখক- পাঠকদের মতামত ও পথপ্রদর্শন প্রার্থনীয়।-- তাপকিরণ রায়।

সহ সম্পাদকের কলমে-- 

মানুষের ভয় ভয় ভাবটা যেন কাটছেই না। এক বছর যাচ্ছে মনে হচ্ছে পরের বছর শান্তি ভাবে শ্বাস নিতে পারব।কবে ঠিক হবে সব, আগের মতো সব ঠিকঠাক ভাবে চলবে। এরই মধ্যে চলছে সব কাজ একটু একটু করে। যেমন যার কাজ তাকে তো সেটা করতেই হবে না হলে চলবে কি করে। আমরা যারা সাহিত্য নিয়ে যৎসামান্য কাজ করি তারাও ভাবি পৃথিবী আবার আগের মতো হয়ে উঠুক। সাহিত্য কর্ম আর ভালো ভাবে নির্ভয়ে করতে পারি।-- শমিত কর্মকার।

সহ-সম্পাদকের কলমে --

বৈচিত্র্যময়ী প্রকৃতির  মতো মানবমনের গতি প্রকৃতিও বড়োই বিচিত্র। যেকোন  একটা অবলম্বনকে আঁকড়ে ধরে থাকতে চায় ।চেতন মনের অগোচরে অবচেতনে বুকের মধ্যে তখন এক এক করে জমা হয় কত শব্দ কত গান কত কবিতা! সে কবিতাও তো আবার যেমন তেমন নয়, এক একটি কবিতা যেন এক একটি গল্পের কথা শোনায় আর শীতের আবহে কুয়াশা জড়ানো ভোরের অন্ধকারে কিংবা  মিঠেল রোদে পিঠ পেতে বসে থাকতে  থাকতে সেই কবিতা গুলোই যখন এসে জমা হয় এই ঝাঁপির মধ্যে, উথলে ওঠা ভালোবাসায় ঋদ্ধ হয়ে উঠি সকলে,শীতের মরসুমে রিক্ততা নয় পূর্ণতার আনন্দে আপ্লুত হয়ে উঠতে চায় মন।-- সাবিত্রী দাস।

No comments:

Post a Comment

শম্পা বণিকের তিনটি কবিতা --

শম্পা বণিকের তিনটি কবিতা --  রোড শো ২০২১  ------------------------ আলাদিনের চিরাগ হাতে ওই আসে গণতন্ত্র রামধনু পায়রা উড়িয়ে.......