Wednesday, 12 January 2022

সাবিত্রী দাসের দুটি কবিতা--

সাবিত্রী দাসের দুটি কবিতা --
ভালোবেসে

জ্যোৎস্না চুঁয়েছে স্বপন ছুঁয়েছে মৌন মুখর প্রাণে
দিগন্তে মেঘ হাতছানি দিয়ে সোনালী স্বপন আনে।
মায়াবী সে মেঘ ঝুঁকে ঝুঁকে আসে স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে,
পরীদের সাথে আনন্দে মাতে জ্যোৎস্নার গান গেয়ে।
হয়তো বা কেউ নীরবে নিভৃতে দিন গোনে একা একা ,
মনেও পড়ে না কবে যেন তার হয়েছিল শেষ দেখা।
বুকের আগুনে আগুন নিভেছে হতাশ দীর্ঘশ্বাসে,
তবুও জীবনে জীবন জুড়েছে অযথা সর্বনাশে।
                  
তুমি এলে
সাবিত্রী দাস

তুমি এলে বোধের গভীরে সূর্য ওঠে,
  অনুভবে কত বোঝা-পড়া।
ইমনের মূর্চ্ছনা কিংবা কখনো বেহাগে
    মূর্ত জীবনের জলছবি।

স্বপ্নেরা নিরন্তর ভেসে যায়, নিয়ত প্রবাহে
     অনুভবে কত ওঠা-পড়া !
বুকের গভীরে অলক্ষ্যে বেজে যায়.....
     বিদায় বেলার অনন্ত ভৈরবী।

Thursday, 6 January 2022

হৃদয়ের ভাষা--সীমা ব্যানার্জী রায়

রেপ্লিকা


রেপ্লিকা হৃদয়ের ভাষা
সীমা ব্যানার্জী রায়

হৃদয়ের ভাষা লক্ষ্যে হয়েছে অতীত 
ধরা তো যায় না, বাকশূন্য রহিত
ভাবলেশহীণ দৃষ্টি গিয়েছে দূরে
অক্লেশে কেন আমাকে রেখেছে ধরে

দলছুট কারা আমারই ছাতার নিচে
বাউলবাগানে ভ্রমরা ঘুরছে মিছে
পাটেপাট করা ভুলগুলো বুঝে গেছে
জয় পরাজয়ের ছায়াটি সঙ্গে আছে।

ভালোবাসার বর্ণ খসে পড়ে
তুমি তিতুমীর নকশা দ্বিপ্রহরে 
বুঝি না কিছুই, সবই কল্পনা ডানা
অবসোলিট প্রাণের রেপ্লিকা বয়ে আনা।

জয়া গোস্বামীর তিনটি কবিতা --

জয়া গোস্বামীর তিনটি কবিতা --

"শৈশবের স্মৃতি"

হিমেল শীতের সকালে  কিংবা কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে ,
স্মৃতিচারণ করি শৈশবের পাতায় আনমনে বিভোরে!
হারিয়ে যাই  কখন ও চেনা  রাস্তা ধরে বহুদূরে,
যেখানে শৈশব ছিল পড়ে, স্মৃতি আসে ফিরে!! 

ডোবাপুকুরে  সবাই মিলে  সেদিন তুলেছি শামুক ,
আবার তুলেছি  দুপুরে সেদিন খেলার ছলে শালুক !!
বাধাহীন ভাবে এ মাঠ ও মাঠে সেদিন মন হারাতাম ধানের ক্ষেতে কখনও বিলের পাড়ে ও ঘুরে বেড়াতাম !! 

প্রকৃতির অমোঘ টানে নিজেকে বারে বারে খুঁজে বেড়াই 
কখন ও চোরের মত  হানা দিতাম পাখির বাসায় সবাই!!
দস্যিপনা করে নিজের ঘরে , শান্ত মেয়ে হয়ে ফিরতাম!
দিনের শেষে মায়ের কাছে কত অভিযোগ না শুনতাম !!
শৈশবটা  হারিয়ে গেছে  সেদিন সময়ের স্রোতের টানে কি হবে আজ আবার  অতীতটা স্মৃতির পাতায় এনে!!
কেউ বোঝেনা শৈশবের মনের অতীতের করুণ যন্ত্রণা
বন্দী করে মনটাকে ,স্মৃতিটা আর ফিরিয়ে দেয়না!!

শৈশবটা স্মৃতির পাতায়  আজ আছে অবহেলায় পড়ে, কখনও  দেখি মনের ইচ্ছেতে  ব্যথাতুর অন্তরে!!
খেলার পুতুল আছে ঘুমিয়ে অনাদরে মেঝেতে পড়ে, হারিয়ে যাই ভাবনার ভাব জগতে অন্ধকারে!! 
এক্কাদোক্কার স্মৃতি আসে  ফিরে অজান্তে মনের কোণে , নিজেকে হারাই কবিতার পাতাতে বিধ্বস্ত হয়ে আনমনে!!
ফিকে স্মৃতি রঙিন করে কাব্য সাজাই নিজের ক্যানভাসে স্মৃতির ঘরে শিরোনাম খুঁজে বেড়াই ভালোবেসে!!

"পাহাড়ের প্রেমে"

ফিরে ফিরে আসি খেয়ালি মনে, বুঝতে পারিনা..
হয়ত হৃদয় খোঁজে,  সেটাই কারণ,মন মানেনা..
যত দেখি দু"চোখে  আশা যে আমার মেটেনা ..
এক বার মন চায় ছুঁয়ে দেখতে বলতে পারেনা.. 

ইচ্ছে করে একবার ভালোবাসার  পরশ নিতে...
স্মৃতির বিজন ঘরে তোমাকেই নিয়ে মাততে...
উষ্ণ আলিঙ্গনে বেহুঁশ করো মনের পাতাতে...
এক বার চাই তোমাকে আমার বাহুডোরে পেতে... 

প্রথম দেখা আমার তোমাকে জ্যোৎস্না রাতে ..
ভয় পেয়ে মুখ ঢেকেছিলাম আমার দু-হাতে ..
এমন রূপে আমি স্তম্ভিত ,সেদিন কল্পনার জগতে..
আমার মনের ক্যানভাসে ধরা তোমারই ছবিতে.. 

পাহাড় নাকি বোবা বলে না  কিছু মনের কথা, ....
অবাক হয়ে চেয়ে দেখে রুপসী মেয়ের মনের ব্যথা..
আমি ছুটে ছুটে  আসি নিবিড়  ভালোবাসার  টানেতে ..
ভেসে যাই  তোমার  প্রেমের গভীরতাতে গহীন রাতে... 
পাইনের বন তোমাকে নিয়ে মাতে মধুর রাতে..
মন হারাই আমি নিঝুম রাতে কবিতার অজুহাতে...
দেখি ঝর্ণা  তোমার হৃদয়হরণ করে নিশি রাতে...
তোমার আলিঙ্গনে ঝড়ে পড়ে নিজের ইচ্ছেতে... 

পাহাড়ের নিঃস্তব্ধতায় আমার মন ব্যাকুল হয়ে....
আমি ও নিজেকে হারাই পাহাড়ের কাছে গিয়ে...
কবিতার পাতাতে বন্দী  থাক রঙিন কাব্য দিয়ে...
আমার ভাবনা শুধু আজ ঐ পাহাড়কে নিয়ে...

স্রোতের টানে 

সীমাহীন বালুরাশি দিগন্তে আজ কেমন মিশে গিয়েছে
এই মরুপ্রন্তে এসে মন প্রশ্নের সাথে  মোকাবিলা করে চলেছে!! 
দেখছি শূন্যতা আমাকে কেমন গ্রাস করে নিচ্ছে,
যেভাবে ঢেউ গুলো আছড়ে পড়ে পাড় ভাঙছে! 

একা শুনছি নোনা জলের কান্না অন্তর পুড়ছে,
বিকেলে দেখেছি ক্লান্ত পাখিরা নীড়ে ফিরছে! 

বুকে মরুঝড় আথালি পাথালি করেই চলেছে,
গড়ছে এক পাড় ভাঙছে ,ভাঙাগড়ার খেলা খেলছে!! 
আমার তপ্ত বুকে হৃদয় ভাঙার আজ ঝড় উঠেছে,
সকালের নীল আকাশ  উদভ্রান্তের  মত উড়ে চলেছে!! 
মন আমার মরুভূমিতে যে কেনো  পরিণত হয়েছে?
খুঁজি আমি এক মুঠো সুখ এই পড়ন্ত বিকেলের কাছে!! 
নিষ্ফল হই শুষ্ক মরু তটে এসে  দিগন্তের কাছে,
কত অভিমান বুকে নিয়ে মন সমুদ্রের কাছেই ছুটছে!! 
ভাঙা মনে এক অন্তহীন বেদনা স্পর্শ করেছে,
ক্লান্ত মন কি যেনো অনন্তে একা খুঁজে বেড়াচ্ছে ! 
ভালোবাসা আজ মরিচিকা আবেগে স্বপ্নে ধরা দিয়েছে, তোমার ভয়ঙ্কর রূপে মন আজ ভয়ে ভীত হয়েছে! 

উত্তপ্ত বালুরাশি আজ কোন মায়াতে  শুধুই টানছে,
আকুল ব্যাকুল তোমার পরশেই মন জাগরিত হচ্ছে!! 
ফিরে আসি তোমার উষ্ণতায় পাবার জন্য মন কাঁদছে,
সমুদ্রের স্মৃতি অনন্ত ভালোবাসায় স্রোতের টানে বয়ে চলেছে!!

দ্বৈরথ / পৃথা রায় চৌধুরী

দ্বৈরথ / পৃথা রায় চৌধুরী 

অন্দরের জমিন রুইয়ে গড়ে উঠেছে আকাশ সমান ঘূর্ণিঝড় 
মিশে আছে ভোগ বনাম শ্লাঘার মেলামেশা বরফকুচি। 
একেই বুঝি ইলশেগুঁড়ি বলে। 
ও আতরদান, গলায় কোথাও রাতজাগা মন্দ্রস্বরে নির্দেশ, 
ঘুম যাও। 
যাও ঘুম, ক্রমাগত বেজে চলে মহাপ্রলয়ের ডমরু 
কে বলে বাম অঙ্গ অসাড় করে উঠে আসছে প্রবাদকালের রক্ষক 
তার নখে, দাঁতে, হিংস্রতায় লেগে থাকে কুসুমভোর। 
এক আঙ্গুল, দু আঙ্গুল ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখে নেওয়া 
আত্মবিশ্বাসের অহংকার। 
জেগে আছো পুরাতনী অন্ধকার, 
ক্রমাগত বুকে ঘষটে আসা ছোবলের নিশানায় নতজানু সন্ত্রাস। 
স্তম্ভে স্তম্ভে ফেটে আসে বসন্তহাসির উপহার হাতে... জন্মমৃত্যুহীন।

পলাশ পালের দুটি কবিতা --

.
পলাশ পালের দুটি কবিতা --
১.
মুক্তির কথা

মাটির প্রাসাদের ওই ভগ্ন স্তূপে আজ‌ও
মোমবাতিরা পরলোকগমন করে।
মরুভূমির সংসারে খুশির বৃষ্টি আসলেই
ক্যাকটাসের আধুনিকতা নষ্ট হয়,
তবুও আমি হারিয়ে যাই এই বিভৎসতায়।
কথার সাথে কথার যুদ্ধ আমায়
টেনে নিয়ে যায় প্রাসাদের বাইরে,
যেখানে বিরহ মাখা কুঁড়ে ঘরের
ভেজা মাটির সুবাস মুক্তির কথা বলে 
আর সেই জোনাকিটা সন্ধ্যার প্রেমে পড়ে।


২.
কথা

প্রতিদিনই সন্ধ্যা এলেই জীবন্ত আলোর প্রতিফলন
বাস্তব চিনিয়ে দেয় আমায়।
পথ হারালেই একটু একটু করে জেগে ওঠে
আমার অব্যক্ত ইচ্ছে গুলো।
ফিকে হয়ে আসে সবুজের মখমলতা,
তবুও অবসর নেয় না ভন্ড আগাছারা।
তাইতো আমি ভালোবাসা দিয়ে বোনা
ফাঁদ পেতেছি 
মুহূর্ত গুলো আবেগের খাঁচায়
বন্দী করবো বলে।
কথারা আজ অপেক্ষায়
কথাদের ভিড়ে হারিয়ে যেতে।

বীরেন্দ্রনাথ মন্ডলের দুটি কবিতা --









বীরেন্দ্রনাথ মন্ডলের দুটি কবিতা --

ধাঁধা 

প্রফুল্ল তুমি কোথায় থাকো? 
মাঝে মাঝে গুনগুনাও 
দরজা জানালা বন্ধ থাকে। 
কিভাবে যে ঘরে ঢুকে যাও? 
জেট প্লেনের আওয়াজ ছাড়ো। 
ছুটে আসো ভীষণ রেগে। 
এই বুঝি দিলে হূল ফুটিয়ে ।
হাত দুটি যে ঢেকে দেই
তড়িৎ বেগে  সাইড মেরে। 

কিছু সময় ঘোরো  তুমি
আমাকে প্রদক্ষিণ করে 
মনে হয় যেন রাগ দেখাচ্ছো ?
বাগানে ফুটেছে অনেক গোলাপ। 
সেখানে তো তুমি গুন গুনাবে । 
আসছে ধেয়ে  মাঝে মাঝে
জেট প্লেনের শব্দ করে। 
হুল ফুটায় বিষ ঝরাবে। 
ফেলবে কি আমায় অনুরাগের জ্বরে ?

।।।।।।।।।

অভিপ্রায় 

পৃথিবীটা দেখো এক বালুকণার ভিতর 

স্বর্গ টা দেখো এক বনফুলের ভিতর। 

অনির্দিষ্ট কাল হাতের মুঠোয়

অনন্ত  পরিক্রমা এক ঘন্টায়। 

আমি নই পারদর্শী নির্দিষ্ট কোন

পরিকল্পনায় ।

শুধু আমার সঙ্গে দেখা করো 

কোথাও উন্মুক্ত প্রান্তরে 

নীল আকাশের নিচে

প্রাণবন্ত জীবন্ত হয়ে। 

।।।।।।।।।।

Wednesday, 5 January 2022

সুবীর চট্টোপাধ্যায়ের দুটি কবিতা--

সুবীর চট্টোপাধ্যায়ের দুটি কবিতা--

ভাত

সব হাই ওয়ে গুলো পথ হারিয়ে ফেলেছে 
তার জটে জটিল জীবন !
অপলক তাকিয়ে থাকে আকাশের দিকে 
তার পায়ের কাছে ফুটছে ভাত !
সাদা ভাতের গন্ধে মাতাল হয়ে আছে কোলের ছেলেটা ! বড় ছেলেটা লোলুপ চোখে তাকিয়ে
থাকে ফুটন্ত শিউলি ফুলের দিকে !
ও চোখের খিদের আগুনে চাঁদ ওঠে !
////////

নক্ষত্র 

শেষরাতে চাঁদের সঙ্গে 
শরীরি খেলা খেলেছি অনেক 
সমস্ত ক্ষত থেকে অনেক পুঁজ রক্ত নিয়েছি 
জ্যোছনার কণায় কণায় পায়রা 
উড়তে উড়তে খাদের কিনারে 
অনেক অশ্বথ্থ বট শিমুলের শিকর আঁকড়ে ধরেছে পাহাড়টাকে সঙ্গম লিপ্সায় 
মেঘে মেঘে বৃষ্টির নূপুর বাজে নীল নীলে
দূরআকাশ থেকে তা দেখে নক্ষত্রেরা জ্বলে !

প্রেরণা বড়ালের দুটি কবিতা--




প্রেরণা বড়ালের দুটি কবিতা--  

নিশিথে     

জাম হাতে যামিনী কাটায় কেহ কেহ।
সোহাগের উজানে ভেসে চলে কেহ কেহ।
লালসার নেশায় নিশি জাগে কেহ কেহ। 
ক্ষুধার জ্বালায় তারা গোনে কেহ  কেহ।
রাত্রি তে নিদ্রায় ঘুমে ঢুলুঢুলু কেহ।
নিশ্চুপ নিঝুম অপলক চোখে কেহ।
কাটায় স্বপন দেখি শর্বরী কেহ কেহ।
হারায় জীবন দ্যুতি আধাঁরে কেহ কেহ।
প্রেরণা বড়ালের দুটি কবিতা--

পৃথিবী     

ধরনীর সুন্দরতা নিয়ে, 
লিখেছেন অনেক লেখক কবি।
সত্যিই অতুলনীয়,
এই পৃথিবীর অপরূপ ছবি।
ধন্য আমি জন্ম নিয়ে,
এই ধরিত্রীর বুকে।
স্বর্গ নরক দুটোই দেখি,
হেথায় লুকিয়ে থাকে।
খুঁজে নাও তুমি,
তোমার মত করে।
কিছুই পাবে নাকো মরণের পরে।

চির নতুন--করবী দাস

চির নতুন
করবী দাস

দেখতে দেখতে শেষ হল আরও
                           একটা বছর।
     পুরোনো হল সেও
                              বিদায় নিল জীবন থেকে
জীবনের বয়স বাড়িয়ে দিল এক বছর।
বছর শেষের দিনে প্রতিবছরই ভাবি,
                 কী ভুল ছিল চলার পথে,
                                  কীভাবে চলা উচিত ছিল,
কাকে ঠকিয়েছি- তার অনুশোচনাতে ভাবি—
                     না, আসছে বছর আর না।
ঠিক করে নিই–
                নতুন বছরে ত্যাগ করব কী,
                           আর গ্রহণ করব কাকে,
                             নিজেকে ঠিক করে চালাতে।
আশা রাখি এ বছর যা হল না
                আসছে বছর হবে।
সবই ভাবি নিজের মতো করে,
                কিন্তু এই একটা বছর শেষের সাথে
          তোমার বয়স আমার জীবনেও তো
                           বেড়ে গেল একটা বছর- তাই না?
           তুমিতো পুরোনো হলে না!
বছর শেষের দিনে এ অনুশোচনাবোধ হয় না কেন-
                        নিজের মনকে কেন ঠকালাম্
                    কেন করেছি চলার পথে
                                          প্রতিবছরই একই ভুল,
             কেন প্রতিবছর শুরুর নতুন তালিকায়
                                           একথাটা রাখিনি-
এ বছর আর তোমাকে ভাবব না,
    এ বছর আর উদাসীন হব না,
                            নিজেকে আর কাঁদাব না,
    তোমাকে; তোমাকে আর ভালোবাসব না।
কই, এগুলোতো মনে হয় না!
                    কেন?
এ আশারও মনে স্থান নেই
              তুমি গত বছর আসনি
                          এ বছর আসবে আমার জীবনে,
             গত বরষায় ভিজিনি একসাথে
                           এ বরষায় ভিজব দুজনে,
              গত বসন্তে হয়নি দেখা
                            এ বসন্তে হবে,
              আমি বিরহ কবিতা আর লিখব না-
                                         সব সুখের কবিতা লিখব।
জানি,দেখতে দেখতে শেষ হবে এবছরটাও
            তোমাকে ভালোবাসতে বাসতে পুরোনো হবে সেও—
            আবার আসবে নতুন বছর
                                         তোমাকে ভালোবাসার জন্য....
শুধু পুরোনো হব আমি
                    পুরোনো হবে বছরগুলো
                                        পুরোনো হবে জীবন-
              তবু নতুন থাকবে তুমি
                     আমার অন্তরের কামারাতে বন্দি হয়ে...
                                           

অদিতি ঘটকের দুটি কবিতা--

অদিতি ঘটকের দুটি কবিতা--
আমরা

সুখ নামের পাখিটার গা ছুঁয়ে দিতেই/
ঝর ঝর করে ঝরতে লাগল নোনা জল/
আর দুঃখ নামের সাগরটা ভর যুবতী হয়ে উঠল /
তাতে আমি তুমি সবাই সাঁতরাতে থাকলাম/
তুমি আড় চোখে আমায় দেখে ভাবলে ---/
পাখিটার কোনো খবর নিশ্চয় আমার জানা/
আমি ভাবলাম তার ঠিকানা অবশ্যই তোমার আস্তিনে লুকোনো/
এই ভাবে আমরা পরস্পরকে অবিশ্বাস করে/
প্রতিষ্পর্ধি হয়ে উঠলাম।/
অনিকেত আমরা নোনা জলে ভাসতে ভাসতে
হাবুডুবু খেতে খেতে লড়াকু হয়ে উঠলাম/
নোনাজল নিভিয়ে দিল আমাদের পিলসুজের পিদিম/
আর টেক্কা দেওয়ার নিষিদ্ধ গোপন ফন্দীতে/
বিষিয়ে গেল আমাদের গহীনতম স্থান/
অথচ তুমি, আমি কিংবা আমাদের যে কেউ ডুবে যেতে দেখলেই/ 
আমদের হাত অজান্তেই এগিয়ে যায়
##########

 ঘর

 শীত নাকি একটা ঘর চেয়েছিল/
 যেখানে সে তার রুক্ষতা ও শীতলতা/ কুলুঙ্গিতে তুলে রেখে উষ্ণ হতে চেয়েছিল/
 এই গল্প আমায় কে কখন শুনিয়েছিল মনে নেই/
 প্রতি শীত রাত ফেরি করে/  হিমশীতলতা বুকে জড়ায় /
 তুষারের শয্যায় বরফের  সহবাসে ওম খুঁজি/
 অনন্ত আকাশের একঝাঁক তারাদের ভিড়ে দেখি/
নৈঋত কোন লাল----/
 হিম জড়ানো আশ্রয়হীনদের
 গল্পগুলো রকমফেরে একই/
#######################

অদিতি ঘটক

সম্পাদকীয়---

সম্পাদকীয়---

আসলে আমাদের মধ্যে কিছু কিছু অভ্যাস বা নেশা বাসা বেঁধে থাকে--তা না মদ, না জুয়া না অন্যকিছুর। তবু আমরা নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ি কিসের আতুর আবাহনে ? হ্যাঁ, লেখালেখি ব্যাপারটা  আমাদের, বিশেষ করে বাঙালিদের মধ্যে একটা বড়ো নেশা।

কখনও এমনি হয়, সময় আর যেন কাটতেই চায় না। আবার অনেকটা সময় আমরা নিজের আজানতেই কাটিয়ে দিই। আনমনা প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে থেকে ভাব-বিহ্বল হয়ে পাড়ি। একটা মুহূর্ত আসে যখন এই সব ভাব ভাবনা আমরা অন্যের মধ্যেও প্রতিফলিত হতে দেখতে চাই। নিজের ভাবভাবনাভাষা সবার সামনে মেলে ধরতে চাই। নিজের একাকিত্ব ভুলতে তোমাদেরও টেনে আনতে চাই সেই ভাবনার নেশাগ্রস্ত বাসরে। 

অনেক সময় ভালোবাসা, কবিতার ভালবাসায় ডুবে যায়। আমরা বড় লালায়িত থাকি, মন কেড়ে নিতে অনাথ প্রেমিক চেয়ে থাকে প্রকৃতির সাজানো আঙিনায় ও অবশেষে সে খুঁজে ফেরে "তারে"। কারে খুঁজে ফেরে ? কে সে ?

আসলে আমারা জীবনভর আমাদের প্রেমিক প্রেমিকাকে খুঁজে ফিরি--খুঁজে ফেরা মনবাসনা বয়সের তারতম্যে ভিন্ন ভিন্ন রূপ নিয়ে ধরা পড়ে। বালক, কিশোর, যৌবনের ভালোবাসা, চাওয়া-পাওয়ার বদল হয়। আবার বার্ধক্যের চাওয়া-পাওয়া হয় সম্পূর্ণ অন্যরকম। তখন 'তারে' খুঁজে ফেরার অর্থ হয় অন্য রকম, সে সব আধ্যাত্মিক জীবনে শান্তি খুঁজে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে আরাধ্য দেবতাকেও বুঝি আমরা খুঁজে ফিরি।

লেখালেখির কিন্তু কোন বয়েস নেই, বিষয়ের তারতম্য থাকতেই পারে। অবসর বিনোদন আমাদের কবিতা গল্প বা লেখালেখিতে ব্যতীত হবে এটাও স্বাভাবিক। এই লেখালেখি একটা সময় অভ্যাসে পরিণত হয়ে ওঠে। আর একটা সময় তা নেশায় পরিবর্তিত হয়ে যায়। তখন প্রতিদিন আমাদের লিখে যেতে ইচ্ছে করে, আমরা মনের ভাবনাগুলি ধরে রাখতে চাই আঁচড় লিপিতে। আমাদের মনে আশা জাগে, আমার নোভাবনাগুলি অন্যে জানুক, আমার মনের সৃজিত ভাব ভাবনাগুলির সঙ্গে সবাই পরিচিত হোক। আমার  উদার মনের কথা, আমার লেখার চাতুর্যতার কথা, আমার অবলীলাক্রম কবি আবেগের কথা যে খাতার পাতায ভরিয়ে রেখেছি সেখানে পাঠক-পাঠিকাদের যে বড় প্রয়োজন।

আমরা কম-বেশি যা লেখালেখি করি তা তে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি। লেখার একটা তাগিদ আমাদের মনের ভেতর থেকে উঠে আসে। আমরা লেখার মধ্যে বুঁদ হয়ে যেতে চাই, মনের মাঝে এক ধরনের নেশা কাজ করে চলে, আমরা মনের উদ্বেলিত ভাবাবেগ বাইরে উগলে দিতে চাই।

কবিতা পেশা হয় ক'জনের ? কবিতা নেশা হয় অনেকের। এ নেশা স্বার্থের কথা বোঝে না, এ নেশা শুধু মনের খোরাক। তাই বুঝি আমরা শোকে দুঃখে বিরহ বেদনায় কবিতা লিখে যাই।

মূল্যহীন, অথচ মনের দিক থেকে মহামূল্যবান, আমাদের এ নেশার বস্তুটি। আমাদের শরীর লালন-পালন সীমিত দায়গ্রস্ততা। শরীর থেকে মনের খাদ্যখুরাক আরও বেশী গুরুত্বপূর্ণ। শরীর লালনের সঙ্গে সঙ্গে আসুন আমরা লিখি- পাড়ি, মন সৃজন করি, অশান্ত মনকে শান্ত করি, কষ্ট দুঃখকে নিমজ্জিত কলমে ও ঠোঁটে প্রাত্যহিক দিন গুজার করি। কিছু লিখিপড়ি, এই অভ্যাস আমাদের ধ্যান-ধারণার মত মনকেও  সমৃদ্ধ করবে।

আমাদের এবারের স্বরধ্বনি ব্লগ পত্রিকা নভেম্বর-ডিসেম্বর, ২০২১ সবাইকে পড়ে দেখতে অনুরোধ জানাই। ভুলত্রুটি পরীক্ষানিরীক্ষার মধ্যে দিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি। আমাদের পথযাত্রাকে আরও প্রশস্থ করতে আমরা চাচ্ছি আগামী বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে প্রকাশ করব আমাদের বার্ষিকী ছাপা সংখ্যা। এ ব্যাপারে আপনাদের সক্রিয় সহায়তার অপেক্ষায় থাকছি। প্রথম ছাপা সংখ্যাটি আমরা যৎসামান্য মূল্যে রাখতে চাচ্ছি। এ সম্বন্ধে আপনাদের, লেখক- পাঠকদের মতামত ও পথপ্রদর্শন প্রার্থনীয়।-- তাপকিরণ রায়।

সহ সম্পাদকের কলমে-- 

মানুষের ভয় ভয় ভাবটা যেন কাটছেই না। এক বছর যাচ্ছে মনে হচ্ছে পরের বছর শান্তি ভাবে শ্বাস নিতে পারব।কবে ঠিক হবে সব, আগের মতো সব ঠিকঠাক ভাবে চলবে। এরই মধ্যে চলছে সব কাজ একটু একটু করে। যেমন যার কাজ তাকে তো সেটা করতেই হবে না হলে চলবে কি করে। আমরা যারা সাহিত্য নিয়ে যৎসামান্য কাজ করি তারাও ভাবি পৃথিবী আবার আগের মতো হয়ে উঠুক। সাহিত্য কর্ম আর ভালো ভাবে নির্ভয়ে করতে পারি।-- শমিত কর্মকার।

সহ-সম্পাদকের কলমে --

বৈচিত্র্যময়ী প্রকৃতির  মতো মানবমনের গতি প্রকৃতিও বড়োই বিচিত্র। যেকোন  একটা অবলম্বনকে আঁকড়ে ধরে থাকতে চায় ।চেতন মনের অগোচরে অবচেতনে বুকের মধ্যে তখন এক এক করে জমা হয় কত শব্দ কত গান কত কবিতা! সে কবিতাও তো আবার যেমন তেমন নয়, এক একটি কবিতা যেন এক একটি গল্পের কথা শোনায় আর শীতের আবহে কুয়াশা জড়ানো ভোরের অন্ধকারে কিংবা  মিঠেল রোদে পিঠ পেতে বসে থাকতে  থাকতে সেই কবিতা গুলোই যখন এসে জমা হয় এই ঝাঁপির মধ্যে, উথলে ওঠা ভালোবাসায় ঋদ্ধ হয়ে উঠি সকলে,শীতের মরসুমে রিক্ততা নয় পূর্ণতার আনন্দে আপ্লুত হয়ে উঠতে চায় মন।-- সাবিত্রী দাস।

বহ্নি শিখার তিনটি কবিতা--


বহ্নিশিখার তিনটি কবিতা--

হ্যাপি নিউ ইয়ার 

চব্বিশ ঘন্টা পেরিয়ে এখন বারোটা বিশ মিনিট, 

হ্যাপি নিউ ইয়ার তৃতীয় দিনে পা দিলো,

গড়াচ্ছি পুরোনো মন-মানসিকতায়,

সুখ শয্যা ছেড়ে নতুন ভোর দেখিনি,

 দেখেছি নিউইয়ার গিফট, মেসেজ।

পাঠাতে হবে সুদ সমেতে স্বার্থ বুঝে,

কিছু বা শুধু দায়সারা নিমন্ত্রণপত্রের মতো,
ভাবনাগুলো যে অশুভ তা শুরুতেই সংকেত  দিয়ে  যায়।

অশুদ্ধতার পরিপাটি আয়োজন, 

বছর ঘুরে প্রতিবার নিউ ইয়ার হয়,

সুখ সমৃদ্ধিতে আরো সুখি হতে চাই, 

কিন্তু পুরোনো  আমিটা আর নতুন হয়ে উঠে না,

বাসি পচা গন্ধে বলে উঠি "হ্যাপি নিউ ইয়ার"।

______

"তোমায় নিয়ে"


ইচ্ছে করে তোমায় নিয়ে
লিখি গল্প গাঁথা
কোন কথা যে লিখবো আগে
ভাবছি সেই সে কথা।

তেমার কথা লিখবো বলে 
রাত্রি জেগে থাকি 
যা লিখি তা কম হয়ে যায়
অনেক থাকে বাকি।

কোন কথাতে টানবো যতি
কোথায় রাখবো রেশ
ভাবছি যত বাড়ছে তত
ভাবনার  নেই যে শেষ।

______

"আগামীর পদধ্বনি "

আনমনে তোমাকে দেখে আসি, এলে কি? একবার,দু'বার,তিনবার,

হাত,পা নিজেই হেঁটে যায়, যেখানে মন পড়ে থাকে,শরীরও সামিল হতে চায়,
  
অপেক্ষার মুহূর্তগুলো শূন্যতা ছোঁয়ে এলে ক্লান্তিরা ভিন্নমাত্রায় ভুলিয়ে রাখে, 

চুপ করে থাকা ভাবনাগুলো কথায় প্রকাশ  করতে  গিয়ে হঠাৎ  ফিরে আসে বিকেল, 

সময় গড়িয়ে সন্ধ্যা রাতের সামগ্রিক ছবি ছড়িয়ে দেয় ব্যাকুলমনে শব্দহীন  নিস্তব্ধতা, 

গন্তব্যে পৌঁছুবার শেষ গাড়িটা ফেল করে ফুটপাত  মন  অপেক্ষা করে আগামীর পদধ্বনি । 

_______

বিমূর্ত--সুমনা ভট্টাচার্য্য

বিমূর্ত
সুমনা ভট্টাচার্য্য

স্যাঁতস্যাঁতে অন্দর ,বাইরে পাত পেতে খেতে বসা রোদ…
এসব যদিও আর একবার মনে করিয়ে দ্যায় -

পোকায় কাটা হলদে পাতাগুলো সাধারণত চমকপ্রদ প্রচ্ছদেই মুড়ে থাকে ;

 একটা শালিক ঘাস থেকে খুঁটে খায় সিন্থেটিক রূপকথার ভুক্তাবশেষ -
কাচের শার্সির আড়ালে টুং টাং বেজে ওঠে উল্লাস

ক্রমশ বাঁক নিতে নিতে কিছু কিছু গলি একসময় স্রেফ অন্ধ হয়ে যায় -
সিঙ্কের গায়ে লেগে থাকা এঁটো জানে বছর ঘুরে গেলেও
কিছু প্রবাহ শুধু চিরাচরিত নামেই খ্যাত ;

 করিডোরের দৃষ্টি নদী ধুয়ে দিলে রোদ পিঠে লেপ্টে দেবে ঘনিষ্ঠ সংলাপ…
করোগেট শেডের ছাদে ব্যস্ত পায়রার ডানায়
আর একটা  অস্থায়ী চিত্রনাট্য লেখার প্রয়াস চলে-

নিঃশ্বাসগুলো লম্বা সাঁকোটা পেরিয়ে একসময় দীর্ঘশ্বাস হয়ে ওঠে...

                                   ---------------

ব্রহ্মচর্য--সোমপ্রভা বন্দ্যোপাধ্যায়


ব্রহ্মচর্য--সোমপ্রভা বন্দ্যোপাধ্যায়

নিরাপদ দূরত্বে থেকে হাতের চেটো মাপে চোরাবালি 
এভাবেই ঘন হয়ে বসলে দীর্ঘায়ু হয় উত্তাপ 

একদা প্রেমিক অথবা প্রেমিকা সেজেছিল যেসব মুখ
আড়ালে আড়াল রেখেছে তারা আজ সহজে।

আমরা হাতে হাত রেখে ভিজছি গোপন স্নানে।

যথাযথ দাহ্য পেলেই পোড়াবো মলিন নথি  । 

 বর্ষশেষের বিমুগ্ধ শৃঙ্গার ভাসিয়ে দেবে ব্রহ্মচর্য।

অদৃশ‍্য আহ্বান.. মহুয়া বিশ্বাস


অদৃশ‍্য আহ্বান
........... ..............
   মহুয়া বিশ্বাস

অন্ধকার নির্জনতায় সে যেন
এক চিলতে আলোর কণা...
কিম্বা ভোরে ফোঁটা 
সাদা শিউলির বোঁটায়
গেরুয়া রং মাখা স্বচ্ছ হৃদয়!
যে হৃদয়ের গভীর গহ্বরের
সুদৃঢ় টানে আমার অস্ত-উদয় ;

কিসের টানে বারে বারে....
জোঁয়ার- ভাঁটা খেলে----
 কিসের টানে হায়....  
নদী মোহনার দিকে ধায়।
সবাই জানে কার কারণে
দিবস এতো আলো..
কার বিহনে গভীর রজনী
নিস্তব্ধ আর এতো কালো!
রবি জানে. তার আলোকস্পর্শে
কতশত ফুল শত রঙের ধারায়
প্রস্ফূটিত হয়ে অপূর্ব শোভিত....
আর ভ্রমরের হৃদয় আনন্দে বিহ্বলিত!
গভীর রজনীতে রঙহীন পুষ্প জন্মে...
কিন্ত নম্র, শ্বেত,পবিত্র ও কান্তিময়...
যার শুভ্রতা মনকে করে 
সুস্থির ও শান্তিময়।।

----------------------------

গোপনকথা--ইন্দ্রাণী ব্যানার্জী







গোপন কথা
ইন্দ্রাণী ব্যানার্জী

নদীর সাথে বন্ধু করে
অনেক কথা জেনেছি
নদী নারী আমিও নারী
মিল হয়েছে ভীষণ ভারি।

আমার মতোই ভালোবেসে
নদী চলে নিরুদ্দেশে
ভাঙে গড়ে দুদিক খানা
যেমন আমার হৃদয়খানা।

সত্যি কথা কানে কানে
বলেছে নদী উদাসপ্রাণে
এত কষ্ট দেখেও সাগর
আসেনা আর নদীর পানে।

কী বুঝলে এবার বলো
ভালোবাসায় কেই বা বড়?
আমিও নারী নদীও নারী
নদীকে বড়ো করেছি।

শীতের সকাল--অগ্নিশ্বর সরকার

শীতের সকাল
অগ্নিশ্বর সরকার

কুয়াশাবৃত চারিধার-
সাদা আঁধার ঘিরে কয়েকটি অবয়ব
একসারি তালগাছ।

ঘোলাটে বুক-চিরে-
কালো সর্পিল দোদুল্যমান ভঙ্গিতে আগুয়ান
পিচের রাস্তা।

একলা মোরগ- 
বেলা ভুলে বেশ কয়েকবার উচ্চস্বরে
কোঁকর কোঁ।

মাঠের চাষি-
টুপি মাথায় খাবার ঝোলা নিয়ে
জমির আলে।

স্কুলের পড়ুয়ারা-
মুখে মাস্ক বেঁধে বই নিয়ে
পড়তে যায়।

গ্রামের গৃহিণী
ঠাকুরঘরে মঙ্গলকামনায় ফুলের সাজি নিয়ে
প্রণাম করে।

গোধূলির আঙিনায়--সন্ধ্যা রায়











গোধূলির আঙিনায়--

সন্ধ্যা রায়


গোধূলির আঙিনায় আমি তোমাকে চাই। 

বেহাগের আকাশে বাজে তোমার সানাই। 

ধামসা মাদোলের বুক ফাটা চিৎকার। 

নিশিরাত গভীরের ডিম ডিম ফুৎকার। 

পলাশের ফাগুন আকাশ সূর্যের অনুরাগ। 

বারুদের গন্ধ আর শিয়ালের হুক্কা ডাক। 

আছে বাজির গন্ধ ধোঁয়া ভরা দিগন্ত 

এ সবের মিলে কৈ নেই তার অন্ত। 

ভালোবাসি বাদ্য সেই মাদোলের ডিমডিম। 

চোঙা ভরা সুরা আর বর্ষার রিমঝিম।

আদিবাসী সাথে নেই, আছে তার সিঙ্গা। 

বাজাবে কেউ নাকি এসে তার চোঙ্গা।

সলফির এক টানে মাতোয়ারা হয়ে যাও। 

তাড়ি টেনে একেবারে নেশা বুঁদ হয়ে রও।।

Monday, 3 January 2022

সান্ত্বনা চ্যাটার্জির গুচ্ছ কবিতা--







সান্ত্বনা চ্যাটার্জির গুচ্ছ কবিতা--


ভালোবাসার সাতকাহন

ভালোবাসি

মনে হয়েছিল ভুল পথে চলেছি

যেন কোনো স্বপ্নাবিষ্ট, মোহোগ্রস্ত,

নেশাতুরের মতন

পতনের দিকে।

সুন্দরকে মনে হয়েছিল-অসুন্দর।

কুয়াশা যেমন

গতি রোধ করে- আবছা করে

দৃষ্টিকে। একটু খানি পাপ বোধ

গ্রাস করে সত্যকে,

মিথ্যা নয় ভালবাসি ওকে ।
---------------------------------------


তোমার কাছে যেতে চাই


আমি তোমার কাছে যেতে চাই

কোথায় আছ তুমি

আকাশে, বাতাসে, নদীতে, সাগরে !

নাকি আগুনে পুড়ে হয়েছ ছাই ।

আমি তোমার কাছে যেতে চাই-

আর্তনাদের মত শুনি

প্রতিধ্বনি ফিরে ফিরে আসে

ধাক্কা খেয়ে পাহাড়ে পাহাড়ে,

যে কথা আমি শুণ্যে ওড়াতে চাই ।

আমি তোমার কাছে যেতে চাই-

যে প্রেম দেয়নি ধরা,

রয়েছে গোপন

আমার অন্তরে, তোমার দেহঘরে,

আমি তাকে কাছে পেতে চাই,

আমি তোমার কাছে যেতে চাই ।

*************************

কৌতুক


সে কৌতুক করেছিল,

আমি তখন ঠিক বুঝিনি,

তবু ভাল লেগেছিল।

কৌতুক তার নেশা,

নদীতে ফেলেছিল ছিপ,

আর জাল ছড়িয়েছিল সরোবরে,

অমি খুব ভোরে উঠে 

মাছ হয়ে ছিপটাকে নিয়েছিলাম গলায়,

আর বোয়ালমাছের মতন জাল 

জড়িয়ে নিয়েছিলাম

 সারা গায় সেদিন সন্ধায় ।


সে কৌতুক করেছিল।

কৌতুক তার পেশা,

ছিপ রেখে, জাল ছেড়ে

সে যখন ফিরে গেল তার ঘরে

তখন গভীর রাত।

আমার মনে তখন মুক্তির আশা ।

কিন্তু আমি অনেক খুঁজেও পাইনি আমার হাত ।
……….

পরস্ত্রী

কপালে ও কিসের দাগ তোমার 

একি আমার চোখের ভুল! 

মদন-ভষ্ম লাগল যখন চোখে আমার 

সামনে কেন এলে তুমি , হায় একি ভুল ! 

কালো চোখের তারায় তোমার রাতের স্বপ্ন কার তরে ? 

হায় রে ও রূপ দেখাল কে হৃদয় কেন দিলাম তোমায় ভুল করে । 

ভুল করে কি দেখেছিলাম 

ভালবাসার ছায়ায় ঘণ তৃষার আগুন ঐ চোখে? 

ভুল করে কি ছড়িয়ে ছিলে 

পলাশ রাঙা মনের ফাগুন এই বুকে? 

রক্তে নেশা মাতাল হাওয়া দেয় দোলা, 

কেমন করে যায় ভোলা সেই পরস্ত্রীকে 

হায় একি ভুল !

********


ভালোবাসা


শিশু সরল পশু পাখি

পদ্মপাতা মন,

সেই সরলে গরল কেন ঢালিস!

কিসের প্রয়োজন ?

পশু হৃদয় চোখেই রাখে

যে বোঝে সেই বোঝে,

শাষণ ভয়ে পা চলেনা

মন তরঙ্গ খোঁজে।

কোন প্রাণে কেউ শিকলে বাঁধে 

এমন নরম মন,

দূরেই থাকুক তোমার পোষ্য

সে সুখে কাটাক জীবন।


আমি ভুলেই যাব তাকে,

তার স্মৃতি ও রাখবনা।

মনের গোপন কোনায়,

আর তাকে ডাকবনা।

 
মানুষ বডই হৃদয়হীন

পোষ্য যে তার কেনা!

মালিক ছাডা তার জীবনে

আর কেউ থাকবেনা ।



ভলোবাসা কি সত্যি কেনা যায়!

—————

জাগিয়ে দিলে


আজ শীতের শেষে ফাগুন মাসে ,

নেশার মতন হওযায় ভাসে,

কার বারতা - কাব্য কথা ।

আমার জীবন মরণ সকল জুড়ে 

যে থাকে আজ সে এসেছে ,

আয় রে তোরা কে যাবি আয় ,

আমার সাথে কদম তলায় ।

ঝুমকো লতা দুলিয়ে গলায় ,

আমায় কে ডেকেছে 

মধুর স্বরে।

তার বলিষ্ঠ হাত জড়িয়ে ধরে ,

আলিঙ্গনে শরীর জুড়ে ফুল ফুটেছে,

সেই যে তুমি লুকিয়েছিলে 

আমার মনের মনিকোঠায় 

আজ দখিন হওয়ার দোলায় যেন 

বাহির হলে -

আজ তোমার রঙে রাঙিয়ে 

এ মন জাগিয়ে দিলে ।।

———


প্রাণের টানে


দূরের মানুষ দূরেই থাকে যদি না ডাকো কাছে , 

যেমন দূরে আছে তোমার সুর্য তারা চাঁদ ; 

যেদিন বোঝো কে পেতেছে জীবন-জোড়া ফাঁদ , 

বুঝবে বন্ধু তারা তোমার জীবন জুড়ে আছে । 

আমি তোমায় ডেকে ডেকে সারা হলাম তবু, 

কে যে তুমি তাই বুঝিনি মিথ্যা ডাকা ডাকি , 

এমনি ভাবে নিজের মন নিজেকে দিয়ে ফাঁকি ; 

বায়না ধরে আমায় তুলে ধরতে হবে প্রভু । 

প্রভু-ভৃত্য, বন্ধু-মিতা কোন পথটা সোজা ; 

কোন পথটা চলতে গেলে কাঁটার ভাগ কম , 

কোন পথটা ফুরিয়ে গেলেও ফুরাবেনা দম ।


নিরাপদ বিশ্বাসের দুটি কবিতা--

নিরাপদ বিশ্বাসের দুটি কবিতা--

"তোমার জন্মদিনে"
-------------------------
আজ তোমার জন্মদিন,
তোমায় নিয়ে ভেবেছি সারাটা দিন!
তোমাকে পেয়েছি অস্পৃশ্য আর
অবহেলিতের মাঝে;
তোমাকে পেয়েছি ধুঁকে যাওয়া জীবনের জীবনীয় কাজে--
নিরন্ন পথ পেয়েছে তোমার ইশারায়
আর্ত পেয়েছে ঠিকানা;

তোমাকে যে কি দিয়েছি জানিনা
কিন্তু পেয়েছি তো অনেক;
হাজার প্রশ্ন বন্ত মন'-দগ্ধ করেছে প্রশ্নবানে!
তোমার পথে হাঁটতে শিখিয়েছিলে
যে কঠোর দুর্গম পথ হেঁটে-
হাঁটতে পেরেছি কি আমরা এতদিনে-----?

তোমার গৈরিক ভারত বর্ষ
গৌরবে করেছিলে মুখর
স্থানু হয়েছিল'-
যে সভা স্থল----
মুগ্ধ অভিভাষণে,
তা আজও জাজ্জ্বল্য'--অমলিন।

তোমাকে জেনেই তো জেনেছি
তুমিই মূর্তিমান ভারত বর্ষ'
তোমাকে জেনেই জেনেছি
ভারত বর্ষের রূপ'
সা মাং প্রধা;
আমার খান্ডব প্রস্থ জীবন রেখা থেকে
বানপ্রস্থ, সন্ন্যাস!
সবই অনাবোরিত তোমার ঊর্জ্জি - আহবানে ;
তোমারি জন্ম দিনে তাই বলি,
--হে বিবেক,-হে বাণী'
তুমি বারবার এস নামি
এ কুহেলিকাময় আবরণ হ'তে
তোমার ভারতেরে
পুনঃ
মুক্তি দাও আনি--।"


অরণ্য কুমারী
__________________
বড্ড দুরন্ত অরণ্য কুমারী
নাম তার রিমি।
মুক্ত আকাশ মুক্ত অঙ্গন!
সে চঞ্চল হরিণী
টানা টানা চোখ
ফুলের বাহারে ভরা বিনুনি
কোমল -অমল লহিনী
লাজবন্তী, দৃষ্টি হরনি!
সুঢল ঢল ঢল পল্লবিনী।
হেঁটে চলে বন হতে বনান্ত,
পায়ে পায়ে চঞ্চল অফুরন্ত;
কখনো একাকিনী
কখনো বা লয়ে সঙ্গিনী
বিলাস বিহঙ্গিনী!

ধিঙড়ি নাচে সে অনন্যা
গানের আসরে সে বন্যা।
নির্জন বনপথে বহুবার
তার গানে মুগ্ধ হয়েছি, মুখর চরাচর;
সে গান, আজো কানে বাজে বারবার!

চলতে চলতে হঠাৎ থমকে যাওয়া,
সময়ের বিলম্বিত লয়,
এভাবে অবরোধ আনবে'--
শ্রাবণ সন্ধ্যা থেকে পাবন ফাগুনে অরণ্য কুমারীর,
এভাবে কখনো ভাবিনি!!


নদী, পূরনো পাড় ভেঙে ভেঙে'---
ছলাৎ ছলাৎ তৈরী করে নূতন পাড়।
জীবনের রোজনামচা বলিহয়'---বদলের ধারাপাতে।
ভাঙা মেঘের ফাঁক থেকে'
উঁকি দেয় অস্তগামী রবি,
কুয়াশার জাল বুনে নেমে আসে
হেমন্তের সন্ধ্যা;
দুর্লভ অনুভূতিতে রাত নামে
নদীর পাড়ে তমাল বনে!
একাকিনী অরণ্য কুমারী
ঝাঁট দেয় একফালি নিকানো উঠান!
মহুয়া তেলে টক পাতার সম্বরার গন্ধে'-
বাতাস ভুরু ভুরু;
এক কোনে চুপ হয়ে আছ'-ক্লান্ত কেরোসিনের লন্ঠন!
সে আড়ি পাতে বনপথে
এল কি সেই চির অতিথি?
যে আসবে বলে ছিল একদিন;
ডুমুরের ডালে ঝাঁকি দেয় তখনই
বাদুড়ের দল!
আবারও নিষ্ফল!
সে থমকে দাঁড়ায়!
তবুও অপেক্ষায়
নতুন আশায়।

বাঁশ বনের চুচোড় পেরিয়ে
সকালের রোদ্দুর খেলে
কাটা ধানের স্তূপে,
পাতার ঠোঙায়,
তাড়ির বসে,
থীর থীর ঝর্নার জলে!
চাটাই পেতে শুয়ে আছে মা';
সে পথের দিকে তাকায়,
যদি আজ বুধুন আসে।'
আছে তো তারই অপেক্ষায়!!
হঠাৎ ওপার থেকে হাঁক দিয়ে ওঠে
ইট ভাটার সর্দার'-রামাইয়া
প্রতাপী, নারী লোভী ঠকবাজ মাফিয়া।
সময় থমকে দাঁড়ায়
বুক কাপে তার
সারা শরীর কাঁটা দেয়!!
মনে ভয়, কি হয়!কি হয়!
ঢেউ ওঠে জলে
মাটি কাঁপে!
পাড় ধসে পড়ে!
পাহাড় ধসে পড়ে!!!!!


কলমে,
নিরাপদ বিশ্বাস
বিবেকানন্দের জন্মদিন উপলক্ষে


"তোমার জন্মদিনে"
-------------------------

আজ তোমার জন্মদিন,
তোমায় নিয়ে ভেবেছি সারাটা দিন!
তোমাকে পেয়েছি অস্পৃশ্য আর
অবহেলিতের মাঝে;
তোমাকে পেয়েছি ধুঁকে যাওয়া জীবনের জীবনীয় কাজে--
নিরন্ন পথ পেয়েছে তোমার ইশারায়
আর্ত পেয়েছে ঠিকানা;

তোমাকে যে কি দিয়েছি জানিনা
কিন্তু পেয়েছি তো অনেক;
হাজার প্রশ্ন বন্ত মন'-দগ্ধ করেছে প্রশ্নবানে!
তোমার পথে হাঁটতে শিখিয়েছিলে
যে কঠোর দুর্গম পথ হেঁটে-
হাঁটতে পেরেছি কি আমরা এতদিনে-----?

তোমার গৈরিক ভারত বর্ষ
গৌরবে করেছিলে মুখর
স্থানু হয়েছিল'-
যে সভা স্থল----
মুগ্ধ অভিভাষণে,
তা আজও জাজ্জ্বল্য'--অমলিন।

তোমাকে জেনেই তো জেনেছি
তুমিই মূর্তিমান ভারত বর্ষ'
তোমাকে জেনেই জেনেছি
ভারত বর্ষের রূপ'
সা মাং প্রধা;
আমার খান্ডব প্রস্থ জীবন রেখা থেকে
বানপ্রস্থ, সন্ন্যাস!
সবই অনাবোরিত তোমার ঊর্জ্জি - আহবানে ;
তোমারি জন্ম দিনে তাই বলি,
--হে বিবেক,-হে বাণী'
তুমি বারবার এস নামি
এ কুহেলিকাময় আবরণ হ'তে
তোমার ভারতেরে
পুনঃ
মুক্তি দাও আনি--।"

------------------------------নিরাপদ

তৈমুর খানের তিনটি কবিতা--



তৈমুর খানের তিনটি কবিতা--


কবিতারা উঠে দাঁড়াতে চায়
💐

তোমার অসুখের বিছানার পাশে
আমার কবিতারা বসে আছে
কোথাও যায়নি ওরা
জানালার চাঁদে হাত বাড়ায়নি ওরা
স্নেহান্ধ পিচ্ছিল কান্না চেপে
সারারাত জেগে জেগে আছে।

কী বলল ডাক্তার?

হয়তো সেরে যাবে
তিনমাস বিশ্রামে তারপর একটু একটু করে

কে দেখবে সংসার? আমরা সবাই হাওয়া খাব?
ছেলেমেয়ে আর শীতের কুয়াশার হাত ধরে
রোদের অপেক্ষা করে করে আমরা কি বিপ্লবী হব?

মৃত্যুকে পুষে পুষে রোজ বড় করি
মৃত্যু কি কোনও দিন আলো হতে পারে?
ডাক্তারের কাছে কোনও সমাধান নেই
শুধু অ্যানাস্থেসিয়া আর ডেটলের গন্ধ ঘরময়
স্যালাইন চুপচাপ শরীরে ঢোকে
যন্ত্রণারা উপশম চায় আমার শব্দের কাছে 

কবিতারা উঠে দাঁড়াতে চায়
সুসংবাদ এসে যদি দরজা খুলে ডাকে!



জানোয়ার
🐏

আমরা স্বর্গের দিকে যেতে যেতে দুইপাশে ফিরে ফিরে তাকাচ্ছিলাম
আমরা সবাই দেবতা—চারিপাশে আমাদের শরীরের ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ছিল
চারিপাশে সবাই আমাদের দেখছিল আর ফুল ছুঁড়ে অভিনন্দন জানাচ্ছিল

আমাদের কোনও ভ্রুক্ষেপ ছিল না সেদিকে 
হাসতে হাসতে চলে যাচ্ছিলাম স্বর্গযানে
দুইপাশে মরচেধরা প্রাণী—ক্ষুধার্ত—ভঙ্গুর—তৃষ্ণার্ত—হাহাকারপ্রিয়... 
দুইপাশে কসাইয়ের দোকান—
নিরন্তর ছুরি শান দেওয়ার শব্দ
নিরন্তর দুর্বোধ্য ভাষার চিৎকার... 

আমরা সর্বশ্রেষ্ঠ দেবতা
স্বর্গে যেতে যেতে দেখছি এসব;
আমাদের গাড়ির চালক জানাল:
এরা সবাই বিভিন্ন জাতের প্রাণী—
পৃথিবীতে এদের জানোয়ার নামে ডাকা হয়!

             

দুপুরের ডাকঘর 
    🏚️

দুপুর এসেছে,একটু পর চলে যাবে
তাকে কিছুই বলার নেই
অনেক মৃত সকাল, শিশির ভেজা ভোর
স্মৃতির আলোয় পড়ে আছে

পাখিদের কলতান উড়ছে কোথাও
কোথাও বিগতা কুমারী শিস দেয় আজও
শরতের শালুক ফোটা দিঘি আর নেই
দিঘির বকেরা সব মৃত! মাছগুলি চলে গেছে অন্যকোনও সমুদ্রের দিকে....

এখন হৃদয় পেতে ছায়া খোঁজা দিন
বিশ্রামে নীরব হয়ে থাকা
মাটি ফাটা তাপে বয়ে যায় দীর্ঘশ্বাস
শীত আর কুয়াশায় লেখা জীবনের শেষ চিঠি
নিয়ে এসেছে দুপুরের ম্লান ডাকঘর
        🏜️

শংকর ব্রহ্মর এক-গুচ্ছ (ডজন) কবিতা--


শংকর ব্রহ্ম-র এক-গুচ্ছ (ডজন) কবিতা--
---------------------------------------------

১).           

পুরানো সেই দিনের কথা
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

পুরনো সেই দিনের কথা ক'জন রাখে মনে
                  যখন ছিল ভালবাসা গোপনে  নির্জনে,
ছুটতো তখন ফাগুন হাওয়া রিক্ত বনে বনে
         পুরনো সেই দিনের কথা ক'জন রাখে মনে?

পুরনো  সেই দিনের কথা ভুলতে পারা যায়?
            মনের মধ্যে স্বপ্ন সে সব এখনও গান গায়, 
হয় তো তা আর কোনকালেই হবে না পুরণ হায়
       তবুও তার আবেগ যেন , দুকূল ছাপিয়ে যায়।

পুরনো সব দিনের কথা ভুলতে যারা চায়
    তা'রা না হয় ভুলেই থাকুক, আমার কিবা দায়?
সে সব দিন মণিকোঠায় স্মৃতি হয়ে  আছে
      পুরনো সেই দিনের আবেশ মনের মধ্যে নাচে।

সে সব নিয়ে নাড়াচাড়ায় আজকাল যে কাটে 
   হয় তো  হৃদয় স্মৃতি মেদুর আপনা থেকে ফাটে,
আনন্দে এই জীবনটাকে  কাটাতে যদি চাও
         ভালবাসার কাঁটার মুকুট  মাথায় পরে নাও।

২).

স্বপ্নের ছবি               
*********************************

হেঁটে হেঁটে আমি চলে গেছি কত দূরে
                       ফিরে আসবার কথাও ভাবিনি ঘুরে
যারা পড়ে ছিল তাদেরও ডেকেছি সঙ্গে
                  এসে ছিল কেউ,কেউ বা মেতেছে রঙ্গে  

এ ভাবেই গেছে দিনগুলি সব ফুরিয়ে
                     এখন হয়তো গিয়েছি কিছুটা বুড়িয়ে
শরীরে ও মনে তবুও ক্লান্তি আসেনি
             স্বপ্নের আশা ছাড়িনি স্বপ্নেরা সব ভাসেনি  

হেঁটে হেঁটে পথে স্বপ্ন দেখেছি কত
                 স্বপ্নে জাগবে তারা যারা ছিল আশাহত
স্বপ্নেরা আজও দুমড়ে মুচড়ে যায়নি
                     যদিও সে'সব সফলতা খুঁজে পায়নি   

এখনও স্বপ্ন ভবঘুরে চোখে দেখে
                    কবি কি সবটা কবিতায় তার লেখে?
ভাবতে ভাবতে সামনে এগোয় কবি
               চোখে মুখে তার আঁকা স্বপ্নের মায়াছবি।

৩).

আত্মহারা
----------------------

                মন যখন স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে 
তখন আর দরকার হয় না কোন কথা বলা,
তার আগে যত কথার কারিগরি
       ভালবাসাকে চটকে তিতো করে ফেলা।

তোমার ইচ্ছে যখন আমার ইচ্ছে হয়ে ওঠে
তখন আর কোন আলাদা ইচ্ছে অনিচ্ছাই     
থাকে না আমার,
হচ্ছে তো দেখছি তাই,তোমার মুখের কথাই 
                         এখন আমার প্রাণের কথা 
তোমার খুশিই আমার খুশি হয়ে গেছে,
                             তোমার কষ্ট আমার কষ্ট
তোমার আনন্দে আত্মহারা হই আমি,                 
এরই নাম ভালবাসা বুঝি?
জানি না বুঝি না কিছু, মনে প্রাণে আত্মহারা হই।          

৪).

কবির জীবন কাটে
---------------------

একটি কবিতা আমি পেয়ে গেছি
                                    ভোরবেলা,পাখির কূজনে,
একটি কবিতা আমি পেয়ে যাই খররৌদ্রে, 
         শীতল জলের স্নেহে, দুপুরের রমণীয় স্নানে।

একটি কবিতা আমি খুঁজে ফিরি সন্ধ্যায়
                      গড়িয়ায়, পিকলুর চায়ের দোকানে,
একটি কবিতা এসে ধরা দেয়
                       অকস্মাৎ গূঢ় রাতে, মোহময় টানে।

একটি কবিতা ভুলে কাছে চলে আসে 
                     দাগা দিয়ে চিরতরে সরে যাবে বলে,
একটি কবিতা শুধু দূরে গিয়ে 
               অনায়াসে, ভালবেসে কাছে আসে চলে।

কবির জীবন কাটে কবিতার সাথে, 
                 এইভাবে বিষাদ-সুখে, দিবসে ও রাতে।

৫).

চাওয়া পাওয়া
-----------------------

সবকিছু চাইলেই হাতে পাওয়া যায় না
             ভুলে যেতে চাইলেই ভুলে যাওয়া যায় না।

হয়তো আমাকে কেউ মনে প্রাণে চায় না
             আমাকে তবু সে কেন মনে ভুলে যায় না?

কবিতাকে ভুলে থেকে কেন দিন যায় না?
               ভুলে যেতে চাইলেই ভুলে থাকা যায় না।

হয় তো বা নিরামিষ কেউ ভাল খায় না
            তবু সে আমিষ মোটে কেন খেতে চায় না?

আমাকে যে কাছে চায়,সে তো কাছে পায় না?
                সবকিছু চাইলেই কাছে পাওয়া যায় না।

৬).

প্রেম নাকি ঘোর
------------------------

কবিতা কবিতা করে কেটে যায় বেলা
             দিন মাস বছর বছর,শব্দ নিয়ে খেলা
                    শব্দের পিছনে ছুটি ছন্দময়
                                তবু তাতে কাটে না যে ঘোর।

চোখের সামনে ঘোরে 
                  কত পরী সুন্দরী,
                            দেখি না তাদের
                                      সেই দিকে দিই না নজর।

' চুল পাকে দাড়ি পাকে
       বুদ্ধি তবু পাকে না যে তোর,
              চারিদিকে ধান্দা এত,
                      কিছু কর
                             শুধু তোর
                                  কাটে না যে কবিতার ঘোর।

সামনে জীবন দেখ 
         বয়ে যায় প্রবাহিত নদীর মতন,
                 ধূসর মন্থর বেলা নেমে আসে কাছে
ছদ্ম মোহে কাটে যে এখনও তোর
             বুকে প্রেম জাগে নাকি মনে থাকে ঘোর?'

৭).                      

বিষাদ
----------------------

বিষাদ কবে যে ফুরাবে আমার জীবন থেকে?

                       এবার শীতে কাটবে না বিষাদ,
বিষাদে ও শীতে বুঝি প্রাণখানি যায়  
       ভাল করে গায়ে টানি , ছেঁড়া কাঁথা-কানি।

এক একটা আস্ত দিন আমাকে ভরে রাখে বিষাদে 
তাকে রাত্রি দিয়ে মুড়ে ফেলে আমি কুয়াশায় ঢাকি।
দিনের ঘটনা সব হিম হয়ে জমে থাকে বুকের ভিতরে,
বুকের কপাট খুলে পরদিন আমি
উনুনের ছাই ভেবে দূরে ডাস্টবিনে ফেলে আসি।

কথা ছিল - ছিল ব্যথা,ছিল না যা - আকূলতা ;
               সবটাই ছিল যথা প্রতিচ্ছবি-কথকতা।

আবার নতুন করে শুরু হয় দিনে বিষাদের ভয় , 
সত্যিই কি এর- নেই কোন প্রতিকার, নেই ক্ষয়?

৮).

জীবনের গান
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

মৃত্যুই শেষ কথা তারপর কিছু নেই আর
এই কথা বলে এক সেয়ানা পাগল
       করে দিয়ে গেল সব হিসাবের গোল

যতদিন বেঁচে আছ পৃথিবী তোমার
             তারপরে কিছু স্মৃতি থাকে শুধু
আর কিছু থাকে নাকি তার?
      তাই এত জীবনের কথা বলা
                       কবিতায় গানে বারবার।

বেঁচে থাকে যারা 
তারাই তো জীবনের গান গাইতে পারে
শব তা পারে না অবশ্য সে কারও 
ধারও ধারে না 
জীবনের মতো সে তো বাধ্য নয় কারও

মৃত্যুর পরে শুধু থেকে যায় কিছু স্মৃতি তারও
সব স্মৃতি মনে ধরে রাখা যায় নাতো কারও
কিছু স্মৃতি  থাকে জাগরুক  
মাঝে মাঝে মনে পড়ে মনে পড়ে বার বারও।

৯).

তুমি না থাকলে
---------------------------

তোমাকে নিয়ে অনেক কথাই লেখা যায়
            কিন্তু আমি শুধু একটা কথাই বলব আজ
তুমি না থাকলে বোধহয় 
                   নিজেকে আর চেনা হতো না আমার। 

তুমি এলে, আমার বাসনা সব বিলীন হয়ে যায়
  কামনার মুহূর্তে যেই দু'হাত তুলে সামনে দাঁড়াও
এক হাতে সুধা পাত্র আর অন্য হাতে বরাভয় 
              তখন আমার যে কী হয়,বলব কি আর ! 

আজ মনে হয়, তুমি না থাকলে বোধহয়
              আমার জীবন অপূর্ণ থেকে যেতো হায়।

১০).

স্বপ্নরেণু
-----------------------

মুঠো ভর্তি ফুলরেণু, রঙ বেরংয়ের আশা
                                    একদিন ভাষা পাবে ভেবে,
তুলে এনে রাখি গোপনে সিন্দুকে, পরম আদরে
                     নিন্দুকে বলবে কত কথা,তাও জানি
তবু কাঁথা কানি জড়িয়ে,এস বসি এখানে,
                     এইবার শীতে,কোথাও যাব না আর।

তুমি গান ধরবে মনে গুনগুন স্বরে,
              মৌমাছিরা ছুটে এসে ঘরে আদর করবে,
সব রেণু ঝরে পড়বে তোমার উপরে
                                       এরপর ফিরে যাবে ওরা,
তারপর যে কি হবে, সে কথা কি ভেবেছিলে তবে?


১১).
                                   
মহাকাল
--------------------

                          শুরুও নেই,শেষও নেই
শুধু যাওয়া আসার মাঝখানে,
                              এক চিলতে রোদ্দুর
তারপর যদ্দুর চোখ যায়
             ধূ ধূ মাঠ খাঁ খাঁ করে,
                                 কারও অপেক্ষায়।

পানাপুকুরের পাশে 
               কালো মেয়েটি দাঁড়িয়ে আছে,
নাকি মেয়েটির পাশে কালো পানাপুকুর
ঠিক বোঝা যাচ্ছে না,
                         সেই থেকে খোঁজা শুরু 
বিভ্রান্তি ঘোচাতে কবি নিজে যায়
             মেয়েটির কাছে,
                       থুরি পানাপুকুরের কাছে 
দেখে মেয়েটি কোথায়ও নেই,
                 পানাপুকুর পড়ে আছে একা।

এ'ভাবেই সব কিছু পড়ে থাকে একা
              শুধু জীবনই থাকে না,
                     মহাকাল হা হা করে হাসে।

১২).
                           
অলীক কল্পনা
---------------------------

উপরে উঠতে চাও, কিন্তু কোথায়?
                    উপরে শূন্যতা ছাড়া, কিছু নেই আর।
দূরে উড়ে যেতে চাও,কিন্ত কোথায়?
                 সেখানেও শূন্যতা শুধু ,নেই কিছু আর।

কোথা থেকে, বল তো কে -
                              পাঠাল তোমায়,এমন জগতে?
অর্থহীন বেঁচে থাকা শূন্যতায়, বন্দীর মতন
                 মৃত্যও কুহেলিকাময় অনিশ্চিত তেমন।
হতাশায় বন্দী পাখি,শূন্যে তুলে আঁখি 
                         ভাবে, কোনদিন মুক্তি পাব নাকি?

এ'জীবন ধাঁধাঁ যেন এক, শূন্যতায় ভরা
                                      সমাধান নেই কোন তার?
বেদনা আনন্দ ক্ষত সব একাকার,
আমাদের উচ্ছল বাসনা - সুখ,স্বর্গ ও ঈশ্বর জল্পনা
     মনেহয় কিছু নয় আর সব শুধু অলীক কল্পনা।


°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
* প্রাপ্তি স্বীকার করলে, স্বস্তি পাবো।

শান্ত শীতলপাটি--রবীন বসু

শান্ত শীতলপাটি

রবীন বসু


অবশিষ্ট ক্ষোভ নিয়ে রাত্রি দাঁড়িয়েছে

হিম পড়ে শব্দহীন, তারারা তাকিয়ে

অসহায় মানুষেরা ঘুমিয়ে কাঁদছে

স্বপ্নে কেউ জেগে আছে? অধরা ইচ্ছারা

ফাঁকা মাঠে গোড় দেয়, বিষণ্ণ বাতাস

গ্রাম ছাড়ে, অহরহ আক্রান্ত পৃথিবী

দীর্ঘশ্বাস ঘাড়ে নিয়ে হেঁটেছে নীরবে;

তবু এই নীলবর্ণ আলোর উদ্ভাস

লুপ্তপ্রায় সভ্যতার জেগেওঠা গান

নির্বাক জাগিয়ে রাখে নিদ্রাহীন রাত

সব ক্ষোভ উপশম, নিবৃত্তির ডাক

আমাকে দিয়েছে এক শান্ত শীতলপাটি।

জয়িতা ভট্টাচার্যর কবিতা--

জয়িতা  ভট্টাচার্যর কবিতা--

নাব্যতা

এই যে উড়ন্ত জীবন তোমার,
ঘাসফুলেদের সাথে হোলিখেলা,
আমাকে ভিখারি করে।
     #                #
জীবন থমকে দাঁড়ায় 
ছায়ায় 
গলে গলে পড়ে বিষণ্ণ দুপুর
        #             #
তোমার রঙিন খেলায় বরাবর
বেরং
  আমি...
একদিন,
 তুমি রেখে এলে
কয়েকটি কাশফুল  
নদীর ধারে
কী মনে করে, গোপনে,
      #                #
এখন
ভিজে মাটি তোমাকে চায়
এখন
  কুলভাঙা ঢেউ তোমাকে চায়
           #                   #
আসবে না!!

ছিন্ন পালক

তুমি না এলে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে
তুমি না এলে সময় স্তব্ধবাক।
পথহারা গাভীর করুণ কান্নার মতো বিষাদ।
রাত ঘরে ঢোকে চুপিসারে 
নগ্ন শরীরে  চিৎ 
কাগজ কলম
 শূন্য হৃদয় আমার
চাঁদে গ্রহণ লেগেছে  যেন।
পৃথিবী অযথা ঘুরপাক খায় 

ছেঁড়া পালকের মতো ঝরে ঝরে 
ঝরে পড়ে চাঁদ 
তুমি জানো
তুমি ত জানো সবই

শ‍্যামাপ্রসাদ সরকারের দুটি কবিতা--

শ‍্যামাপ্রসাদ সরকারের দুটি কবিতা--

অবতরণিকা

সেদিন তবু তুমি আসবে বলেছিলে,
সে ঘনঘোর রাত্রির উষ্মায়,
তখন দুটো হাত ছড়িয়ে খুঁজতাম,
যদি,একবার এসে দাও নিষ্কলঙ্ক আশ্রয়
যদি দাও, অন‍্য জীবনের স্বাদ...

তারপর আস্তে আস্তে বেলা বাড়ল,
তোমার সিঁথির প্রবজ‍্যা ক্রমশ ঘনিয়ে এসে,
আস্তে আস্তে এসে ছুঁয়ে গেল গালের লালিমা
তারা সব এতকাল অচৈতন‍্যে যেন ঘুমিয়েছিল।

তবুও দেখ,  কি দূর্বিষহ আর নিষ্করুণ হৃদি!
তোমার পাশটিতে থেকেও থাকতে দিলনা আজ,
কেবল দূরে ফেলে রেখে  একাকী হতবাক,
যত্নশীল সময় এসে  নৈকট‍্যকে করেছে অসম্মান,
আর দিয়ে যায়  মলিনতার একাংশী আবহ,
বলে যায়, " শেষের শুরু হল আজ থেকে "! 

তাও বিশ্বাস করবে কি আর?
দুটো হাত ছড়িয়ে আজও চেয়েছি বহুবার,
যদি তুমি একবার এসে দাও নিষ্কলঙ্ক আশ্রয়!
জীবনের অন‍্যখানে নিয়ে গিয়ে আমায়,
অথবা নিয়ে যেও জীবন চলে গেছে যেখানে......
.....

রাইযাপন ! আবার

রাই, রাত কেটে আবার একটা ভোর!
পুবের জানালায় আসছে সর্বনেশে আলো
তোমার কথা ভাবতে ইচ্ছে করছে!
তাই পোস্টকার্ডটা জড়িয়ে নিচ্ছি অযথা
অনেক কথা বলার আগেই যদি,
থেমে যায় কলমের সাবলীলতা
তাই ভয় পাচ্ছি! চিন্তাও হচ্ছে
তোমার গ্রীবায় থাকুক সূর্যমুখী আলো,
সর্বাঙ্গে থাকুক অকাল জ‍্যোৎস্নার মায়া,
ওষ্ঠে থাকুক রূপোলী কুঞ্চন,
আর শস‍্যভাণ্ডারে থাকুক সঞ্চয়ের সুডৌল আঙ্গিকটুকু।

আজ তবে এইটুকু কথাই থাক
শরীরে বিভ্রম লেগেছে এখন
তোমার কথা ভাবতে ভাবতে,
আমার এখনো বেপরোয়া হতে ইচ্ছে হয়!
যদি অদেখা আসঙ্গের পরে পাই,
সেই "পিরীতি গরল ভেল..."!
........

আমার ভেজা পা-পাতা--তাপসকিরণ রায়


আমার ভেজা পা-পাতা
তাপসকিরণ রায়

আমি দুর্দান্ত কিছু করতে গিয়ে
যে দিন অনন্ত আকাশে ঢিল ছুঁড়লাম
সে ঢিল আর বুঝি ফিরে আসেনি...
চমৎকারী কথার ফাঁদে আমরা মজে যাই অনায়াসে--
ভূস্খলন চিড়ে আটকে ছিল যে শিশুটি, 
আমি তাকে জ্যান্ত তুলে আনার অদম্য ইচ্ছেতে...
আশ্চর্য মাদুলি থেকে সিদ্ধাই কিছু তুর্যালোক তোমার আমার মুখ আলোকিত করতে পারে।
দেব আভায় তুমি মন্দিরের স্থির স্ট্যাচু হয়ে গেলে,
সাপের বিষ দাঁত খুলে কিছু বিষৌষধী  
তোমার গালে ঢেলে দিলাম--
আর মন্দির বিগ্রহ ভেঙে উঠে এল আমার সহস্র দেবীরা।

কুকুরের ভালোবাসা একদিন জংলী মানুষের মনের ভিত নাড়িয়ে, মৃত্যু ঝাঁপ দিয়েছিল।
চাঁদের স্পর্শে তোমার ভালোবাসাটুকু ছিল, 
তাই বুঝি আজকের সভ্যতা এবং স্থায়িত্ব।
কিন্তু আমি অবিনশ্বর থেকে গেলাম-- 
আমি চূর্ণালোক হয়ে তোমাদের দৃশ্যতয়া, টুকরো টুকরো জুড়ে গিয়ে 
নবজন্ম নিতে চাই।

এক ডাকে জ্বলে উঠুক আমার খাপ খোলা তরবারি-- 
প্রতীক চিহ্ন থেকে আমার শীর্ষ এবং 
অর্ধ অবয়ব খুলে যেতে যেতে 
তোমরা চিৎকার করে উঠবে, ম্যাজিক--
দাহ নেই, অন্তর্দাহ নেই, আগুন নেই, স্ফূলিঙ্গ নেই, আমার কাছে আমি নেই, তোমাদের কাছে তোমরা নেই,
হঠাৎ ভ্যানিশ, অনন্ত থেকে আমায় দেখিয়ে তোমরা বললে,
ওই সেই চমৎকারী ম্যাজিশিয়ান !

এক ন্যাতানো সরীসৃপের মত 
কুণ্ডলী ভেঙে হঠাৎ যদি শক্তিময় বীর্যশালী কোন চমৎকারী শূন্যতা ছুঁয়ে দিতে পারি-- 
তোমরা সে জমায়েতের দর্শকের মধ্যে থেকে 
সিনেদৃশ্যের মত আমার উল্লম্ফন ও অপরাজেয় শেষ নায়ক দেখো, 
অনন্তনাগ শীর্ষে আমি বসে আছি দেখো!
দুর্দান্ত কিছু একটা করে নিতে 
আমার সেই শূন্যতায় ছুড়ে দেওয়া অদৃশ্য ঢিল আর কোন দিন যদি ফিরে না আসে!

যদি বাস্তবকে ভেঙেচূরে জমা পড়ে 
বিজ্ঞানের ব্যর্থতা, 
তখন আমার আর্তনাদ উঠে আসুক, 
তোমরা চমকিত আমার লালাভ মুখ, উজ্জ্বল মুখ, মহামান্য অন্তর্ধান ছবিতে তখন আর আমি নেই--
তাতে ক্ষতি কিছুই নেই, 
আমার ছবি দেওয়ালে দেওয়ালে টাঙিয়ে রেখো, অনন্তরেখা পার করে গেছি তখন আমি, 
মাটিগর্ভে, ধীরে, অতি ধীরে 
তৈরী হোক আমার শিলালেখ।
অমৃতবাণীর মন্ত্রপূত ভূর্জপত্র রাখা থাক, আর আমার ভেজা পা-পাতা থেকে উঠে আসুক 
গঙ্গা-যমুনা-নর্মদা...

চেতনাও লুঠ হয়---শিখা মালিক

চেতনাও লুঠ হয়
শিখা মালিক
---------------------------------
আমার  চেতনা লুঠ হয়ে গেছে অন্ধকার গ্রহের উন্মাদ কিছু অবক্ষয়ের কাছে ,
শূন্যতে বসে দেখছিলাম চেতনার উপর ওরা ঝাঁপিয়ে পড়ে কাটা ছেঁড়া  করছে আর আমার বিবেক ধিক্কার  জানাচ্ছে।
সমালোচনার ছুরি চেতনাকে চিরে ফালা ফালা করছে ।
অনন্ত রাত্রির  আলো বুঝিবা পথ হারায় কোন গুহাচিত্রে যেথায় আদিম পোষাকে মানবী ভবিষ্যতের বীজ বোনে ।
সামাজিক অবক্ষয় লুঠ করা চেতনার গভীরে শুধু  খোঁজে  শারীরিক  অঙ্গ প্রত্যঙ্গ, জেগে ওঠো বিবেক মেরুদণ্ড সোজা করে  অবক্ষয়ের মূলে করো কুঠারাঘাত,থামুক ওদের বিদ্রুপাত্মক  হাসি যা কিছু  হোক মলিন যা কিছু হোক বিলীন ।

ঊশ্রী মন্ডলের গুচ্ছ কবিতা--




ঊশ্রী মন্ডলের কবিতা--

আমি সাফল্য চাই

আমি সাফল্য চাই ,

কিন্তু কারোর কোনো দেওয়া সুবিধা নিয়ে  ;

আমি সফল হতে চাই না l

আমি আমার চেষ্টা..

যোগ্যতার..

ও পরিশ্রমের মাধ্যমেই সফল হতে চাই  |

জানি এই সাফল্যই হবে...

এই জীবন স্রোতে ভেসে চলার একমাত্র উপাদান ll 


ভেবো কেমন!


আমার উপস্থিতির অভাব..

তুমি বা তোমরা কী বুঝতে পারো ?

যদি না পারো তবে তোমার বা তোমাদের সাথে..

আমার এই বন্ধুত্বের বন্ধন কখনোই সুদৃঢ় হবে না  l|


মাঝে মাঝেই তোমার বা তোমাদের দৃষ্টি থেকে ..

ইচ্ছে করেই অনুপস্থিত থাকি,

নিজেকে চেনার মতো ..

 সবচেয়ে কঠিন কাজে ব্যপ্ত থাকি ;

 ভেবে দেখলাম জীবনের..

 সবচেয়ে সহজ কাজ ছিলো অপরকে  উপদেশ দেয়া।|


আমি কী তা জানার জন্য ,

এ কঠিন কাজের ভার এক বা একাধিক -

সচেতন অস্তিত্বকে দিতে চাই ,

যার বা যাদের এখন অফুরন্ত সময় ;

সে বা তারাই পারবে..

এই কাজটি সহজ উপায়ে সহজ ভাবে করতে ||


পারবে না,অসম্ভব, সময় নেই !

এ কথাগুলো একদম উচ্চারণ করো না,

জানি মন চাইবে না অকারণ পরিশ্রম করতে  ;

একবার অন্তত  বিবেক দিয়ে বিচার করো কেমন ।|

জেগে আছি


হাজার হাজার বছর ধরে...

এ জগৎ নিজ জীবন অতিবাহিত করে চলেছে

প্রবাহিত কু আর সু কে নিজের অন্তরে নিয়ে l


গাঢ় অন্ধকারে পূর্ণ রাতটা..

কিছুতেই যেন আর শেষ হতে চাইছে না ,

ধরিত্রীও ক্লান্ত ও অতিষ্ঠ এ কু'য়ের অসীম দৌড়ে l

মনে মনে অস্থির হচ্ছি ..

এ অন্ধকারে সব কিছু ধ্বংস হয়ে যাবে  ,

চিৎকারে বলি , "কেউ কি আসবে অন্ধকার দূর- করতে ?"


রাতপাখি তীক্ষ্ণ চিৎকারে বলছিলো..

আর বেশী দেরি নাই আসছে সে আসছে ,

তাই ধরিত্রীর মতোই আমিও তাঁরই অপেক্ষায় জেগে আছি l


অহমিকা 


ওই ঘুড়ি যতই উপরে উঠুক না কেনো..

লাটাইধারী তাকে যেকোনও সময়ে গোত্তা খাওয়াতে পারে ,

উপর থেকে নিচে ভোঁকাট্টা হয়ে পড়ার পর ;

ফলাফল কি ভীষণ তীব্র হবে ভাবতেও,ভয় লাগে  ll


আমিও তো বিধাতার হাতে এক ঘুড়ি ওড়ানো..

অহংকারে পূর্ণ নিজেকে জাহির করার ব্যাপারে ,

উপরওয়ালা যদি কেটে দেয় জীবন ঘুড্ডি অতঃপর ;

ভাবো কি শোচনীয় পরিণতি হবে আমার,তার ত্যাগে  !!


ঘোষনা



জানো দ্রুতগতি সম্পন্ন...

ট্রেন কিংবা বাসের জানালার সিট্ ,

আমার বেশ পছন্দের ;

এখান হতেই বাইরের দৃশ্য..

মন ও প্রাণ ভরে উপভোগ করতে পারি l

কিন্তু যখনই বাহিরকে দেখতে চাই ,

তা কখনোই ভালোভাবে দেখতে পারি না  ;🗿

শুধু তারা চোখের সামনে থেকে দ্রুত চলে যায় ll


তেমনি মনের গভীরে...

অদৃশ্য সময়ের জীবন গাড়িতে বসে ,

স্মৃতির জানালায় বসি  

তখন স্মৃতিরা এক এক করে..

দ্রুত মনের আঙিনায় আসে আবার চলেও যায়  |

এই আসা ও যাওয়ার খেলা,

খেলে চলেছে সময় অবিরাম অনবরত প্রতিনিয়ত  ;

কোন কিছুই চিরস্থায়ী নয় এটাই ঘোষনা করে যায় ll


লাগাম


আমার আজকাল..

ভীষণ ইচ্ছে করে নতুন কিছু পেতে,ভাবতে l

আমি জানি..

' হয়তো ' শব্দটা সহজেই পাওয়ার মতো-

আরামদায়ক একটা শব্দ ,

যা মাঝে মাঝে মনটাকে বেশ আশাবাদী করে তোলে l


আবার,ইচ্ছে হলো..

কোনো কিছু অর্জনের প্রথম ধাপ,

জানি ইচ্ছে পূরণ হলেই..

ঐ' হয়তো ' সন্তুষ্টি রূপে হানা দেবে  ;

আমি সন্তুষ্টিকে এখনই চাইনা..

তাই ইচ্ছেতে একটু লাগাম টানলাম ll

ডাঃ সুভাষ চন্দ্র সরকার--*তৃষিত মন*

ডাঃ সুভাষ চন্দ্র সরকার

*তৃষিত  মন*
-------------------

তৃষিত  হিয়া খুঁজে বেড়ায় 
অনন্ত চির প্রেমের পিয়াসে;
তাই শ্যাম সোহাগী  বৃন্দাবনের 
পথে ধায়,তৃষিত  হিয়া 
বাধা নাহি মানে কণ্টকাকীর্ণ 
গিরিপথ, বৃক্ষ তরুলতা পক্ষী
আনন্দে আন্দোলিত হয় যেন 
পূর্ণ হয় রাধিকার মনোরথ।।


*হঠাৎ দেখা*
---------------------

ট্রেনটা থামলো কানপুর স্টেশনে;
হঠাৎ জানি না কেন
তিতলীর নাম টা পড়লো মনে, 
কখনো বলতে পারিনি 
আমি তোমায় ভালোবাসি, 
জানিনা কেন জড়তা ছিলো মনে। 

উতলা হলো মন;
এতো নাম থাকতে তিতলীর
নাম টা মনে এলো,
এমন সময় এসে দাঁড়ালো 
ডাউন  হাওড়া গামী দুরন্ত এক্সপ্রেস ;
জানলার সোজাসুজি নারী কন্ঠে 
আমার নাম ধরে ডাকলো।
চোখ তুলে দেখি শাল গায়ে 
বসে আছে আমার স্বপ্নের তিতলী।

অবাক চোখে তাকিয়ে বললাম ;
সত্যিই তুমি সেই তিতলী?
কেমন আছো ;কোথায় থাকো?
উত্তরের আগেই ট্রেন ছেড়ে দিলো
আমি তাকিয়ে রইলাম 
ট্রেন চলে যাওয়া পর্যন্ত,
জানিনা কেন হলো দেখা ;
আমার  অপেক্ষার নেই  অন্ত,
এমনি ভাবে চলে যাবে আমার 
জীবনের শেষ বসন্ত।।

শম্পা বণিকের তিনটি কবিতা --

শম্পা বণিকের তিনটি কবিতা --  রোড শো ২০২১  ------------------------ আলাদিনের চিরাগ হাতে ওই আসে গণতন্ত্র রামধনু পায়রা উড়িয়ে.......